রবিবার ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৩ বছর আঙুলের নখ কাটেননি অরুণ

  |   বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   436 বার পঠিত

৩৩ বছর আঙুলের নখ কাটেননি অরুণ

সংগৃহীত ছবি

মানুষ শখের বশে কত কিছুই না করে; কিন্তু এই শখ যদি হয় একটু ব্যতিক্রম তবে কেমন হয়। এমন শখ থেকে ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসাকে চিরন্তন রূপ দিতে ৩৩ বছর ধরে বাম হাতের আঙুলের নখ কাটেননি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার অরুণ কুমার সরকার (৪০) নামে এক যুবক। দীর্ঘদিন ধরে নখ না কেটে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। কেবল নখের কারণে এলাকায় দর্শনীয় পুরুষে পরিণত হয়েছেন অরুণ। নখগুলো দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ ভিড় করছেন বলে জানা গেছে।

অরুণ কুমার সরকার ফুলবাড়ী উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। শুরুর দিকে বাবা-মা নখ রাখা নিয়ে আপত্তি করেছিলেন। ভাবতেন শারীরিক সমস্যা হবে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও তা মেনে নিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে অরুণ যখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তখন কয়েক সপ্তাহ নখ না কাটায় স্কুলের শিক্ষক তাকে নখ কাটার কথা বলেন; কিন্তু কৌতূহলবশত নখ আরও একটু বড় হলে কেমন লাগে, সেটা দেখার চিন্তা করে লুকিয়ে নখ রাখা শুরু করেন অরুণ। সামান্য বড় হতেই নখের প্রতি ভালোবাসা (মায়া) জন্মায় তার। সেই ভালোবাসাকে লালন করতে গিয়ে তিনি নখ কাটা বন্ধ করে দেন। আর সেখান থেকেই শুরু। তারপর দেখতে দেখতে ৩৩ বছরে নখগুলো গাছের ডালের মতো আঁকাবাকা হয়ে বড় হয়েছে।

বর্তমানে অরুণের বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের নখ লম্বায় ১১ ইঞ্চি, অনামিকা ১৫ ইঞ্চি, কনিষ্ঠা ১৩ ইঞ্চি, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেড় ইঞ্চি এবং তর্জনী ২ ইঞ্চি। অরুণ জানান, হাতে নখ রাখার ব্যাপারটা শখের বসে শুরু হয়। প্রথম প্রথম বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা নখ রাখার ব্যাপারে বাধা দিলেও পরে তারাও তা মেনে নেন। এ অবস্থায় অনেক বছর কেটে গেল, তার বাম হাতে রাখা নখগুলো পর্যায়ক্রমে বড় হতে থাকে।

অরুণ জানান, বড় বড় নখ তার কাজের কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে না। পেশায় ফটোগ্রাফার অরুণের বাজারে একটি স্টুড়িও দোকান রয়েছে। ছবি তোলা, কম্পিউটার চালানোতে কোনো সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও এখন আর কোনো সমস্যা হয় না। নখগুলোর প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা জন্মেছে। এ কারণে আমার নখগুলো আর কখনো কাটব না। কোনো কারণে এই নখের অংশ একটু ভেঙে গেলে, তাতে তিনি খুব কষ্ট পান বলে জানান অরুণ।

অরুণ বলেন, শখের নখগুলো এখন গৌরবের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নখ দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে আসছেন। কোথাও বেড়াতে গেলে নখগুলো দেখার জন্য মানুষ ভিড় জমান এবং অনেকে অনেক কথা জানতে চান। তাতে আমার ভালোই লাগে

স্থানীয় মাসুদ রানা, রেজাউল করিম, পার্থ মন্ডল জানান, অরুণ আমাদের প্রতিবেশী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাতে নখ রেখেছেন। দেখতে বেশ ভালো লাগে। আসলে এটা করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি একটি সাধনার বিষয়, তাছাড়া অনেক ধৈর্য থাকতে হবে। তার নখগুলো দেখতে অনেকে আসেন।

শখের নখ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা- এ ব্যাপারে কথা বললে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর বলেন, দীর্ঘদিন নখ রাখা ঠিক নয়, কারণ নখের ভেতর ময়লা ঢুকে স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। এছাড়া নখ উষ্টে গিয়ে আঙুলের ক্ষতি হতে পারে। তাই এরকম শখ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Facebook Comments Box

Posted ৫:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫

manchitronews.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক
এ এইচ রাসেল
Contact

5095 Buford Hwy. Atlatna Ga 30340

17709121772

deshtravels7@gmail.com

error: Content is protected !!