



| বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 206 বার পঠিত

সংগৃহীত ছবি
ভোরের আলো ফোটার কথা ছিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা কাদেরিয়া পাড়ার ছোট্ট পাড়াটিতে। কিন্তু বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল আটটার দিকে সেই আলো ঢেকে যায় কালো ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করে নেয় একের পর এক বসতঘর। আতঙ্ক, চিৎকার আর অসহায়তার মাঝে নিভে যায় দাদি ও তার আদরের নাতনির প্রাণ।
৫৫ বছর বয়সি রুমি আকতার ছিলেন পরিবারের অভিভাবকেরর মতো। সংসারের সব দায়ভার সামলে তিনি আগলে রাখতেন সবাইকে। আর তার পাঁচ বছরের নাতনি জান্নাত আকতার ছিল পরিবারের হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্যের উৎস। ভয়াল আগুনের থাবা থেকে শেষ পর্যন্ত কেউই রক্ষা পাননি। দাদির আঁচলে জড়িয়ে থাকা শিশুটি যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপত্তা খুঁজেছে, কিন্তু নিয়তির কাছে হার মানতে হয়েছে দুজনকেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে সবাই ছুটে এলেও আগুনের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। চোখের পলকে আটটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যারা কোনোমতে বের হতে পেরেছেন, তারা কেবল প্রাণটাই বাঁচাতে পেরেছেন, বাকি সবকিছু হারিয়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় দাদি ও নাতনিসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির হিসাব শুধু টাকায় মাপা যায় না, হারিয়ে গেছে মানুষের জীবন, নিভে গেছে শিশুর হাসি, ভেঙে পড়েছে অনেক স্বপ্ন। ঘটনার পর থেকে পাড়াটিতে নেমে এসেছে শোকের নীরবতা। দাদি-নাতনির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। আগুন নিভে গেলেও থেকে গেছে দীর্ঘশ্বাস আর না ফুরানো বেদনা।

Posted ৭:১২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
manchitronews.com | Staff Reporter


