বুধবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা

  |   বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   123 বার পঠিত

খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা শেষ হয়েছে। বুধবার বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সেখানে খালেদা জিয়াকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি। এর মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজার আগ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনী তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। পরে জীবদ্দশায় মা কোনো ভুল-ত্রুটি করে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চান তারেক রহমান।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছায় খালেদা জিয়ার মরদেহ। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া এভিনিউতে ছুটে আসেন লাখ লাখ মানুষ। হাউমাউ করে কাঁদেন অনেকেই। সান্ত্বনা দিয়েও কাউকে থামানো যায়নি। প্রিয় নেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের স্রোত ও ঢল নামে।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউ, জিয়া উদ্যান ও আশেপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। জিয়া উদ্যানের প্রবেশপথ, মাজারের দিকে যাওয়া সড়ক এবং প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরো এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় খালেদা জিয়ার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের আশেপাশে কোনও সাধারণ মানুষকে এখন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়। মা খালেদা জিয়ার কফিনের পাশে কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান।

সেখানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। পাশেই ফিরোজা নামে বাড়ি। যেখানে বেগম জিয়া বসবাস করতেন। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বেগম জিয়ার ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ।

Facebook Comments Box

Posted ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

manchitronews.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক
এ এইচ রাসেল
Contact

5095 Buford Hwy. Atlatna Ga 30340

17709121772

deshtravels7@gmail.com

error: Content is protected !!