



| শনিবার, ০২ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | 585 বার পঠিত

প্রতীকি ছবি
ঋতুর পালা বদলের নিয়ম মেনে প্রকৃতিতে এসেছে বর্ষা ঋতু। গরমের দাবদাহ সেই সঙ্গে বর্ষার বৃষ্টির ভেজা আবহাওয়ায় বড়দেরই মানিয়ে নেয়া বেশ কষ্টসাধ্য।
পরিবর্তিত এ আবহাওয়ায় শিশুদের অবস্থা হয় আরও নাজুক।
এই বৃষ্টি তো এই ভ্যাপসা গরম। আবহাওয়া এখন এমনই। প্রকৃতির পট পরিবর্তনের এই সময় হুট করে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে শিশুরা। এই সময়টাই যেকোনো রোগের আঁতুড়ঘর।
বর্ষায় বেশি ক্ষতির শিকার হয় কোমলমতি শিশুরা। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় শিশুর সুস্থতায় এই সময় বাড়তি খেয়াল রাখা চাই। শিশুর পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, রোজকার যত্ন- এসবের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত কাপড়গুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।
এই সময় শিশুরা ত্বকের নানা সমস্যাসহ আক্রান্ত হয় ঠাণ্ডা, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস (শ্বাসতন্ত্রের এক ধরনের প্রদাহ), ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস এবং কিছু চর্মরোগ হতে দেখা যায়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ ফ্লু বা ভাইরাসজনিত রোগগুলো তো আছেই একইসঙ্গে মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
এ সময় তাই শিশুদের বেশি যত্ন প্রয়োজন।
তবে একটু সচেতন থাকলে এ রোগগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সুস্থতায় যা চাই-
১. ভেজা কাপড় বদলানো:
বৃষ্টিতে ভিজলেও দ্রুত কাপড় বদলে ভালোভাবে মুছে দিন।
২. গোসল:
বৃষ্টি হচ্ছে, আবহাওয়া একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভেবে শিশুকে গোসল না করিয়ে রেখে দেবেন না।
হালকা গরম পানিতে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তাহলে নানা রকম সংক্রমিত রোগ থেকে শিশুকে দূরে রাখবে।
৩. ঘাম মুছে দিন:
শিশু ঘেমে যাচ্ছে কিনা, খেয়াল রাখুন। ঘাম হলে মুছিয়ে দিন। প্রয়োজনে পোশাক বদলে দিন।
৪. ভেজা বিছানা পরিবর্তন:
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শিশু ঠাণ্ডা অনুভব করতে পারে। এ কারণে ঘনঘন বিছানা ভিজিয়ে ফেলার প্রবণতা শিশুর মধ্যে দেখা যায়। তাই শিশু বিছানা ভেজানোর পর দ্রুত ভেজা কাপড় বদলে দিন।
৫. ঘরে সূর্যের আলো:
শিশুর ঘরে যেন সূর্যের আলো পর্যাপ্ত থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ঘরের কোনা পরিষ্কার রাখুন। মশা বংশ বিস্তার করতে পারে এমন স্থানের জমে থাকা পানি ফেলে দিন।
৬. পর্যাপ্ত ও জীবাণুমুক্ত পানি পান:
শিশুকে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি খাওয়ান।
ফোটানো পানি খাওয়াতে হবে। পানি ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে শিশুকে পান করাতে হবে। পানিবাহিত রোগগুলো থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে শিশুকে।
এই সময় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ খুব বেশি। শিশুর গোসলের পানি থেকে পান করার পানি সবই হতে হবে জীবাণুমুক্ত। ফুটিয়ে পানি পান করলে ভালো।
৭. পুষ্টিকর খাবার:
এই সময় পুষ্টির দিকেও নজর দিন। ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।
বর্ষায় শিশুদের বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
ডাক্তারের পরামর্শ:
প্রতিরোধ ব্যবস্থাই শেষ কথা নয়। শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক
ডা. মো. আতিকুর রহমান
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

Posted ৪:২৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ আগস্ট ২০২৫
manchitronews.com | Staff Reporter


