বুধবার, অগাস্ট ২৫, ২০২১

শিরোনাম >>

নিজে পাচার হয়ে পতিতালয় থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে আনলেন মা

মানচিত্র ডেস্ক   |   বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১ | 203 বার পঠিত | প্রিন্ট

নিজে পাচার হয়ে পতিতালয় থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে আনলেন মা

সংগৃহীত ছবি

মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে স্বেচ্ছায় ভারতে পাচার হন মা। ট্রেন থেকে লাফিয়ে, পাচারকারীদের সাথে লড়াই করে ভারতের পতিতালয় থেকে উদ্ধার করেন মেয়েকে। বিউটি পার্লারে কাজের লোভ দেখিয়ে ভারতের একটি পতিতালয়ে পাচার করা হয় রাজধানীর এক তরুণীকে। ওই তরুণীকে উদ্ধারের একক “অভিযানে” নামেন তার মা। স্বেচ্ছায় “পাচার” হন ভারতে।

দীর্ঘ লড়াই আর জীবন-মৃত্যুর ভয় তোয়াক্কা না করে বারবার পাচারকারীদের হাত বদল হয়ে এবং শেষে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে অবশেষে মেয়েকে উদ্ধার করে দেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন ওই মা। বুধবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণীকে বিউটি পার্লারে চাকরির লোভ দেখিয়ে পাচার করে দেওয়া হয় ভারতে। গাবতলী থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সাতক্ষীরা সীমান্তে। তারপর নদী পার করে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তের ওপারে। মিরপুরের অধিবাসী নাগীন সোহাগ ছিলেন এই পাচারের মূলহোতা।

সোহাগ আরও অনেক মেয়েকে এভাবে পাচার করেছেন বলে র‌্যাবের কাছে আটকের পর স্বীকার করেছেন। মেয়েটি দেশে ফিরে তার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে। অন্যদিকে লড়াই করা মায়ের কাহিনী প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার কাছে।

শেষ মুহূর্তেও পাচারকারীরা ভুক্তভোগী মেয়েটিকে বলেছে, চিন্তার কারণ নেই, চাকরির কোনো সমস্যা নেই। ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে মেয়েটি বুঝতে পারে ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু ততক্ষণে আর তার কিছু করার নেই। অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার পর মেয়েটিকে প্রথম নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায়। তারপর কয়েক হাত ঘুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উত্তর দিনাজপুরের একটি পতিতালয়ে।

মেয়েটির জীবন বিষাদে ভরে যায়। এদিকে মেয়েকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে যান মা। খোঁজ নিতে থাকেন। অভিযোগ করেন পুলিশে। সন্দেহভাজন পাচারকারীদের নামে মীরপুরের পল্লবী থানায় জিডিও করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে মা গোপনে যোগাযোগ করেন পাচারকারীদের সঙ্গে। নিজের পরিচয় গোপন করে তাদের কাছে বিদেশে চাকরি চান।

পাচারকারীদের হোতা সোহাগ তাকে জানান, বিদেশে করোনাকালে লোক পাঠানো বন্ধ। তবে ভারতে বিউটি পার্লারে চাকরি আছে। পাঠানো যাবে। মা রাজি হয়ে যান। মেয়েকে পাচার করা রুট সাতক্ষীরা ধরেই এই মাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় দিল্লি। কিন্তু তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে দিল্লি নেই। পশ্চিমবঙ্গে আছে।

তিনি পাচারকারীদের ট্রেন থেকে পালিয়ে চলে আসেন কলকাতা। অনেক কষ্টে স্থানীয় পাচারকারী গ্রুপের আরেক দলের সহায়তায় জানতে পারেন, তার মেয়েকে পাঠানো হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের একটি পতিতালয়ে। তিনি সেখানে যান। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে সতর্ক করে, একবার ভেতরে প্রবেশ করলে আর বের হওয়া যাবে না।

নতুন সমস্যা এড়াতে তিনি এবার স্থানীয় একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহায়তা নেন। অনেক অনুনয়ের পর এই চেয়ারম্যানের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করেন। তারপর মেয়েকে নিয়ে আসেন সীমান্তে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। পরে বিস্তারিত শুনে বিএসএফ সদস্যরা খবর দেয় বিজিবিকে। উভয়পক্ষের পতাকা বৈঠক শেষে মানবিক কারণে মা মেয়েকে বাংলাদেশে এনে ঢাকা ফিরতে সহায়তা করা হয়।

পুলিশের উপ-কমিশনার আ স ম মাহতার উদ্দিন সাংবাদিকের বলেন, তারা তো জিডি করেছে। মামলা করেনি। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। পরে অবশ্য র‌্যাব ও সিআইডি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

অবিশ্বাস্য কষ্টে মেয়েকে উদ্ধার করা এই মা গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি চান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। আগামীতে কোনো মেয়ে এভাবে যাতে পাচার হতে না পারে সে ব্যাপারে সব বাবা-মাকে তিনি সতর্ক করেন।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:২৬ এএম | বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১

manchitronews.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

A H Russel Chief Editor
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

5095 Buford Hwy, Suite H Doraville, Ga 30340

E-mail: editor@manchitronews.com