• শিরোনাম

    স্বপ্নবাজ মানুষ আজাদুল হকের গল্প

    এএইচ রাসেল | ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৪:২৩ অপরাহ্ণ

    স্বপ্নবাজ মানুষ আজাদুল হকের গল্প

    আজাদুল হক

    ঢাকার গ্রীণ রোডে বেড়ে ওঠা। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা কলেজে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিক্সে পড়াশোনা চলাকালে আমেরিকায় চলে যান।

    সেখানে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘদিন আমেরিকায় বসবাসের পর মাটির টানে ফিরেছেন বাংলাদেশে। বলছি ম্যাক্স গ্রুপের পাওয়ার ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদুল হকের কথা।

    দীর্ঘ ৩৭ বছর আমেরিকায় কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন মাটির টানে। তার ক্যারিশমাটিক সাফল্যের রহস্য বাংলাদেশের মানুষ আগেও দেখেছে। দেশের প্রথম নন-লিনিয়ার এডিটিং, বড় পোস্টার প্রিন্টিং, থ্রিডি অ্যানিমেশন এসেছিল তার গড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান স্টার অ্যাডভারটাইজারসের হাত ধরে। স্বপ্নবাজ এই মানুষটি সপ্নের না বলা কথা সম্প্রতি বলেছেন খোলা মনে।

    ছয় বোনের একমাত্র ছোট ভাই আজাদুল হক। আমেরিকায় দীর্ঘসময় সময়ের মধ্যে প্রথমে যান ইলিনয়। তার পরে ৮৪ সালের দিকে হিউস্টনে চলে যান। পড়াশোনা শেষে ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের মাইক্রো কম্পিউটার ল্যাবে ছিলেন সুপারভাইজার। তখন অ্যাপল ম্যাকিনটস বের  হয়েছে মাত্র। তখন থেকে আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে না গিয়ে আইটি বেছে নেন ।

    এরপর ডিস্কটেক নামে এক কোম্পানিতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন । তারপর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কাজ করেন হিউস্টনের কম্পিউটার এক্সপোতে। আজাদুল হক বিয়ে করেন ১৯৯২ সালে। এরপর তার ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করে  দুই ছেলে সন্তান। কোর ইইই ইঞ্জিনিয়ার হয়েও আমেরিকা আজাদুল হককে আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলল! তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন দেশে ফিরবেন। তার একজন শুভানুধ্যায়ী ড. সেলিম রশিদ তাকে বললেন দেশে গিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে এবং একজনের কন্টাক্ট ডিটেইলস দিলেন।

    আজাদুল হক বলেন, ১৯৯২ সালে ঢাকায় ফিরলেন। তিনি যোগাযোগ করলেন ড. মোসলেহ উদ্দিন স্যারের সাথে নর্থসাউথে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা! তিনি প্রথম জয়েন করলেন  আইটি বিভাগে। অনেক কিছুই গড়ে দিয়ে যখন তিনি আমেরিকায় চলে যেতে চাইলেন তখন ১৯৯৩ সাল তার সাথে পরিচয় ইফতেখার আহমেদ কিসলু নামে এক ব্যক্তির সাথে।

    এরপর স্টার অ্যাডভারটাইজারসে দায়িত্ব নেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে। তিনি  ৯৮ সাল পর্যন্ত দেশের অগণিত প্রথিতযশা শিল্পীদের সাথে কাজ করেন। এখনো তার মনে মনে পড়ে আইয়ুব বাচ্চু ভাই, তারেক মাসুদ ভাইয়ের কথা। তারেক মাসদের মুক্তির গান ও আদম সুরতের সাবটাইটেল করেছিলেন আজাদুল হক । এছাড়া নতুন নতুন অনেক প্রযুক্তি তারা এনেছিলেন  দেশে। এগুলো নতুন প্রাণ দিলো বাংলাদেশি ইন্ডাস্ট্রিতে।

    তার একসময় আবার মনে হলো আমেরিকায় আরও কিছু কাজ তার করা উচিত। চলে এলেন আমেরিকায়। জয়েন করলেন নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে লকহিড মার্টিনের কন্ট্রাক্টে। কাজ করেছেন লাইফ সায়েন্স ডাটা সিস্টেমে, টেলিসায়েন্স সাপোর্ট সেন্টারে (টিএসসি)। এরপর আমেরিকার ৩য় বৃহত্তর এনার্জি কোম্পানি কিন্ডার মর্গানে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০ বছর চাকরি করেন।

    আজাদুল হক আরও বলেন, যখন শুরু করেছিলাম, তখন ওই কোম্পানির পুঁজি ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। যখন চলে আসি; তখন সেটা ছিল ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়! এই ২০ বছর অনেক ধরনের গল্পে কেটে গেছে তার জীবন।  তবে সবসময়ই আশাবাদী ছিলেন বাংলাদেশকে নিয়ে।

    আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহৎ সংগঠন ফোবানারও সেক্রেটারি ছিলেন পরপর চার বার। এরপর প্রবাসীদের ভালোবাসায় ফোবানার চেয়ারম্যান নির্বঅচিত হন। তবে ভুলে যাননি দেশের কথা। তার সবসময়ই ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের জন্য কিছু করার। তাই এ বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন ম্যাক্স পাওয়ারের। ম্যাক্স পাওয়ারের দুটো পাওয়ার প্লান্ট আছে। একটি ঘোড়াশালে, আরেকটি কুশিয়ারায়।

    আজাদুল হকের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে ম্যাক্স পাওয়ার। পায়রা বন্দর থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য ৪০০ কেভির ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন টাওয়ার তৈরি করছেন। এছাড়া আমরা রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে বানাচ্ছেন টারবাইন হল, কুলিং টাওয়ার, ট্রেনিং সেন্টার, শোর প্রটেকশন- এমনটাই জানালেন আজাদুল হক।

    তিনি বলেন, কনভেনশন অব এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স বা কোনের কনভেনর ছিলাম। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। আমার বক্তৃতায় তাকে বলেছিলাম, আমরা ব্রেইন ড্রেইনকে করতে চাই ব্রেইন গেইন। সেই কথার ভিত্তিতেই দেশে চলে আসা। কোনের সময় বক্তৃতার মাধ্যমে কিছু মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম যা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আমার প্রস্তাবনাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

    বলেছিলাম, আমরা বাংলাদেশে নাসার আদলে একটি স্পেস সেন্টার গড়ে তুলতে চাই। অচিরেই হয়তো কোনো একসময় আমরা রকেট পাঠাতে পারবো আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতেই। সেটা না পারলেও তৈরি করতে পারব আরও অনেক কিছু। যা স্পেস সায়েন্সকে সাহায্য করবে।

    তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের অভূতপূর্ব পরিবর্তন তাকে আবেগতাড়িত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কালচার বদলে গেছে, সবাই এখন অনেক টেক স্যাভি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভিপি নুরের বিলাসী জীবন!

    ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

    পৃথিবীর যে দেশে কোন সাপ নেই?

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আমরা