• শিরোনাম

    মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত তৃষার

    মানচিত্র ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ২:১০ অপরাহ্ণ

    মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত তৃষার

    দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তৃষা পারভীনের। ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট সে। অর্থাভাবে অন্য ভাই বোনদের পড়ালেখা হয়ে ওঠেনি। বাবা-মা’রও খুব একটা ইচ্ছে ছিল না তাদের ছোট মেয়ে ছোট পড়াশোনা করুক।

    কিন্তু যার মধ্যে প্রতিভা থাকে তাকে দমিয়ে রাখা যায় না। সেই দারিদ্রতাকে জয় করে তৃষা এবার এববিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সিলেটের হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

    সে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে। মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় তৃষার পরিবারে এখন বইছে আনন্দের বন্যা। তবে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে তৃষা পারভীনের।

    জানা গেছে, সামান্য কয়েকশতক জমিতে সবজি উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন তৃষার বাবা মজিবর রহমান। দুই ভাইও কৃষক। তাদের সামান্য আয়ে কোনো মতে চলে সংসার। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট তৃষা। সংসারে অভাব অনটনের কারণে পড়াশোনা করা অবস্থায় ছোট বেলায় বড় দুই বোনের বিয়ে দেন বাবা মজিবর।

    ছোট বেলা থেকেই খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল তৃষা। সে সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর মাধ্যমিকে ভাঙ্গুড়া মমতাজ মোস্তাফা আইডিয়াল স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে।

    এরপর তৃষা ভর্তি হন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

    তৃষার এমন সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার। শুধু পরিবারই নন, তৃষার এমন সফলতায় খুশি গ্রামবাসীরাও। কিন্তু চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তৃষাকে কীভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করবেন? আর কীভাবে পড়াশোনার খরচ চলবে-এমন দুঃশ্চিন্তায় পরিবারের লোকজন।

    অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তৃষার মেডিকেলে ভর্তি হওয়া নিয়ে। ভাই কাওছার আলী বলেন, বোন (তৃষা) মেডিকেলে চান্স পেয়েছে এতে খুশি। কিন্তু আর্থিক অনটনের সংসার। অনেক কষ্টে বোনকে এতদূর এনেছি।

    মেডিকেলে ভর্তি করাসহ পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো আর্থিক সঙ্গতি আমাদের নেই। তাই কীভাবে বোনের ভর্তির টাকা যোগাড় হবে আর কীভাবে পড়াশোনার খরচ চালাবো তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি।

    ভাঙ্গুড়া মমতাজ মোস্তাফা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান বলেন, তাদের (তৃষা) অভারের সংসার। আমাদের স্কুলে সে যখন পড়তো, তখন আমরা তাকে বিনামূল্যে খাতাকলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করেছি। এখন সে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে শুনে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু পরিবারের দারিদ্রতার কারণে তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    তৃষাকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করা যেতে পারে—-০১৭৮৫-৮৫০৭০১

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পৃথিবীর যে দেশে কোন সাপ নেই?

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আমরা