• শিরোনাম

    মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    মানচিত্র ডেস্ক | ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২:০৭ অপরাহ্ণ

    মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নিহত কামরুজ্জামান ওরফে ইমন। (ছবি সংগৃহীত)

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক কলেজছাত্রকে (১৮) নির্মমভাবে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। গত বুধবারের (২০ নভেম্বর) এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই যুবকের নাম কামরুজ্জামান ওরফে ইমন।

    ইমনের বাড়ি মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামে। তিনি রাজশাহী সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুকে ইমনকে মারধর ও শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ইমনকে হত্যার পর ঘটনাটি চেপে যায় মানসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র। ইমনের পরিবারকে বলা হয় স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে তার পরিবার।

    ইমনের পরিবার মারফত জানা গেছে, দুই ভাই-বোন মিলে রাজশাহীতে একটি বাসায় ভাড়া থাকতে তারা। চলতি মাসের প্রথম দিকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন ইমন। মানসিক সমস্যা হয়েছে ভেবে তাকে প্রথমে পাবনাতে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে ইমনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে এসেও স্বাভাবিক হতে পারেননি ইমন। নানারকম সমস্যা করতে শুরু করেন। পরে গত মঙ্গলবার তাকে মিরপুর উপজেলার সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

    পরদিন বুধবার কেন্দ্র থেকে ইমনের পরিবারকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বলা হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইমনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফোন পেয়ে ইমনের বাবা এজাজুল আজিম মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান। এজাজুল আজিম জানান, সমর্পণ নামে মানসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে রাতে ইমন স্ট্রোক করে। এ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তাই তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যান।

    গতকাল মঙ্গলবার সমর্পণ মানসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এজাজুল আজিম। যাতে দেখা যায়, ইমনের হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তার শরীরে কয়েক দফায় ইনজেকশন পুশ করা হয়।

    ভিডিওতে দেখা গেছে, ১৯ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ঘরের মেঝেতে ফেলে মারধর করা হয় ইমনকে। ফুটেজে তার হাত ও পা কাপড় দিয়ে বাঁধা দেখা যায়। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মতিন শরীরে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল। এ সময় কয়েকজন তার বুক ও গলা চেপে ছিলেন।

    নিহত ইমনের বড় বোন রোকসানা পারভীন জানান, তিনি তার ভাইকে কখনও ধূমপান করতেও দেখেননি। মানসিক সমস্যা হচ্ছে চিন্তা করে তাকে ভাইকে সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তাকে হত্যা করা হবে সেটা ভাবতে পারেননি তিনি। ছেলে হারিয়ে শোকে পাগল ইমনের মা কামরুন্নাহার। তিনি জানান, ছেলেকে সুস্থ করার জন্য মানসিক কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার লাশ হাতে পেলেন। ইমনকে নির্যতন করে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তার।

    সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মতিনের সঙ্গে কথা হেলে তিনি জানান, ইমনের খারাপ অবস্থা দেখে স্থানীয় এক চিকিৎসককে ফোন করেন তিনি। এমবিবিএস পাশ করা ওই চিকিৎসক তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ইমনকে দুটি ইনজেকশন দেন। পেরে ইমন ঘুমিয়ে পড়েন।

    নিহতকে মারধরের কথা জানতে চাইলে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন আবদুল মতিন। এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, বেলা ১১টার দিকে ইমনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তিনি মৃতপ্রায় ছিলেন। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

    এ দিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সিলগালা করে দেওয়া হয় সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি। এ ছাড়া এ ঘটনায় ঢাকায় অধিদপ্তরে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানান ঝিনাইদহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব কুষ্টিয়া) আজিজুল হক।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

    ভিডিও…https://www.facebook.com/watch/?v=804855969949956

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আমরা