• শিরোনাম

    মাঠ কাঁপানো সেই ছাত্রলীগ নেতার দায়িত্ব নিলেন এলিট

    মানচিত্র ডেস্ক | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

    মাঠ কাঁপানো সেই ছাত্রলীগ নেতার দায়িত্ব নিলেন এলিট

    ছবি সংগৃহীত

    একসময়কার মাঠ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা এখন অনেকটাই নিঃস্ব বলা চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে জীবন নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। জীর্ণশীর্ণ কাপড় পরেন, চেহারায় জীবন-সংগ্রামে পদে পদে হেরে যাওয়ার ছায়া। এমন একটি মলিন মুখের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

    সেই ছাত্রলীগ নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তিনি রানার বাড়ি সংস্কার করে দেবেন। প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ছিল গত ১৬ নভেম্বর। ওই দিন রানার মলিন মুখের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সম্মেলনেও তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোতাহার হোসেন রানার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ হওয়ার পর নিজ উপজেলা মিরসরাই ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে এমন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মানুষটি পরবর্তী জীবনযুদ্ধে হেরে যান। তাকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই স্ট্যাটাসটির কিছু অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো–

    ‘অনেক পুরাতন শার্ট, টুপি পরিহিত ও আশাহীন চোখে তাকিয়ে থাকা জরাজীর্ণ ছবির এই মানুষটির নাম– মোতাহার হোসেন রানা। (সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সাবেক সভাপতি, কবি জসীমউদ্দীন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, মিরসরাই থানা ছাত্রলীগ)

    ‘৯০ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন রানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে ৫ মিনিট জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।’

    সভামঞ্চে তার বক্তব্য শুনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা খুশি হয়ে তার নাম, ঠিকানা ডায়েরিতে টুকে নিয়েছিলেন সেদিন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ছাত্রলীগ নেতা রানা আজ নিঃস্বপ্রায়। জীবনযুদ্ধে হেরে গেছেন তিনি। রাজনীতি তো দূরের কথা পরিবারের ভরণ-পোষণ নিয়ে নিত্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।

    ১৬ নভেম্বর মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত দর্শকের সারিতে চেয়ারে বসা ছিলেন মোতাহার হোসেন রানা। কিন্তু সভামঞ্চে তারই হাতে গড়া কর্মী, সহযোদ্ধা অনেকে থাকলেও কেউ তার খবর রাখেনি। এ নিয়ে ফেসবুকে একজন আক্ষেপ করে লিখেছেন- ‘রাজনীতিতে অর্থ-বিত্ত না থাকলে দাম নেই। টাকা-পয়সা না থাকলে টিকে থাকা যায় না। সংগ্রাম আর ত্যাগের এটিই সত্য। জয় হোক রানা ভাইয়ের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সারা বাংলার সব মুজিবপ্রেমী কর্মীদের।’

    এর পর রানার দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। রানার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, মিরসরাইবাসীর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে রানা ভাইসহ আরও কিছু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারিদের খবর পাই, যারা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বা জেলা ছাত্রলীগের কিংবা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এদের সবাই আওয়ামী লীগের জন্য এমন সব ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যা বর্তমানে খুবই বিরল।

    তিনি বলেন, মে মাসে খবর আসে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা ভাই ভালো নেই। নিদারুণ অর্থ-কষ্ট নিয়ে দিনযাপন করছেন। চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

    এলিট বলেন, রানা ভাইয়ের দায়িত্ব আমি নিলাম। ওনার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ, ওনার চিকিৎসা খরচসহ আমি প্রতি মাসে একটি সম্মানী দেব, যা ওনার ব্যক্তিগত হিসেবে জমা হবে। এ ছাড়া মোতাহার হোসেন রানা ভাইয়ের বাড়িটি আমি সংস্কার করে দেব, যাতে ওনার আগামী দিনে বাসস্থানের সমস্যাটা সমাধান হয়। আমি ওনাকে একটি পাকা বাড়ি করে দেব।

    এদিকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মোতাহার হোসেন রানা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আমরা