• শিরোনাম

    পড়ুন আরিফ মাহমুদের হৃদয়স্পর্শী লেখা

    আরিফ মাহমুদ | ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ২:৫৬ অপরাহ্ণ

    পড়ুন আরিফ মাহমুদের হৃদয়স্পর্শী লেখা

    যতদিন পর্যন্ত আপনি কায়িক শ্রম দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাবেন । আর উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা এবং আবাসনের জন্য ইউরোপ আমেরিকা যাবেন-ততদিন পর্যন্ত বুঝবেন আপনার ধর্ম, আপনার সভ্যতা, আপনার সংস্কৃতিকে গোলাম বানিয়ে রেখেছেন। আপনি বুশকে গালি দিয়ে আদর করে সন্তানের নাম রেখেছেন সাদ্দাম।

    সেই সাদ্দাম বড় হয়ে ইউরোপ আমেরিকা যাওয়ার জন্য ভিসা অফিসে লাইন দেয়। অথবা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে লাস হয়ে ভেসে যায়। আপনার ধর্মীয় বড় হুজুর বলেন- ক্লাস ফোর ফাইভ পড়ার পর মেয়েদের আর পড়ালেখার দরকার নেই। কারণ- পর্দা নষ্ট হবে। কিন্তু উনি জানেন না- মেয়েরা যদি ডাক্তারই না হয়-তবে উনার বউ-মেয়ে অসুস্থ হলে কার কাছে যাবে। নাকি বিনা চিকিৎসায় ঘরেই মারা যাবে ?

    আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন-পুরো দুনিয়াব্যাপি মুসলমানদের মার খাওয়ার অন্যতম কারণ হলো- -বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকা। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারাটাও একটা ব্যর্থতা। মাত্র অর্ধকোটি ইহুদি মেধার দ্বারা সারা দুনিয়ার ক্ষমতা কব্জা করে রাখতে পারলেও- ১.৮ বিলিয়ন মুসলমানের সেই হিম্মত নেই।

    জ্ঞান জগত থেকে আজ এরা যোজন যোজন দূরে। আপনার একটা এমআইটি নেই, হার্ভার্ড নেই, অক্সফোর্ড নেই, ক্যামব্রিজ নেই। আছে শুধু একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে কাফের বলা আর ডজন ডজন ফতোয়া জারি করা। ষোড়শ সালে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে একজন কষাইয়ের ছেলে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেছে হার্ভার্ড আর একজন বাদশাহর ছেলে তৈরি করে দিয়ে গেছে তাজমহল। এখন, একটা থেকে সেলফি তৈরি হয়। আরেকটা থেকে সেলফ কনফিডেন্স তৈরি হয়। পার্থক্য এখানে।

    পিছিয়ে থাকার এরকম শত শত উদাহরন রয়েছে। শুণলে আপনার বুকে যদি হাহাকার নেমে না আসে। তাহলে এই অধঃপতন রুখার সাধ্য আর কারো নাই। ভারতের প্রথম পরমানু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. এইচ জাহাঙ্গীর ভাবা। একজন ওলি এবং মুসলিম বিজ্ঞানী। যাকে সমগ্র ভারতের পরমানু অস্ত্রের আদি জনক বলা হয়। এরপর এই পরমানু অস্ত্র বহন করার যে মিসাইল দরকার তার মূল কারিগরকেতো সবাই চিনেন ।

    তিনিও একজন মুসলিম বিজ্ঞানী- প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আব্দুল কালাম। আর এসব কিছু সফল ভাবে পরিচালনা করার জন্য যে সেলগুলো দরকার- তার থিংক ট্যাংকও ছিলেন-মওলানা আজাদ- স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী। আর পুরো ব্যবস্থার সামগ্রিক নিরাপত্তা দেখার প্রধান কৌশলি ছিলেন- ব্রিগেডিয়ার মুহম্মদ ওসমান। যিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ার অফার প্রত্যখান করে আমৃত্যু নিজ জন্মভূমি থেকে ভারতের সেবা করে গেছেন। এছাড়া সমস্ত গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার যে সব ভিত্তির ওপর আজ দাঁড়িয়ে আছে সেই আলগরিদম, এ্যলজেব্রার স্রষ্টা জাবের ইবনে হাইয়ান আল খাওয়ারিজমির মতো মহা মনিষীদের কথা না হয় নাইবা বললাম।

    ভারত স্বাধীন হওয়ার পর পণ্ডিত নেহেরু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এবং মুসলমানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় মুসলমানদের শিক্ষার ভার মুসলমানদের উপরই ছেড়ে দেন। প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আযাদও চেয়েছিলেন-ভারতের প্রতিটি সন্তান হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন সবাই ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বের হয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। কিন্তু বেঁকে বসলো ঐ মুসলমান ফতোয়াবাজরা। তারা ইঙরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াকে হারাম ঘোষণা করলো। আর শুধু ঢিলা, কুলুফকেই বললো হালাল। যে ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম বলা হলো সেই ইংরেজি এখন ওয়াজের মার্কেটে একটা হট আইটেম।

    যত যুদ্ধ হোক না কেন- আপনাকে বুঝতে হবে বোমার চেয়ে কলমের জোর সবসময় বেশি। যদি সেটা যোগ্য মানুষের কলম হয়। ড. জাকির হোসেন, হেদায়েতুল্লাহ, ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ, এপিজে আব্দুল কালামের একটা কমন পরিচয় হলো- ইনারা সবাই ভারতের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। হেদায়েতউল্লাহ আবার ভারতের প্রধান বিচারপতিও ছিলেন। এবার চিন্তা করেন এরকম যোগ্য লোকগুলো যদি আজ ভারতের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট অথবা বিচারালয়ের প্রধান হিসাবে থাকতেন তবে ক্যাব, সিটিজেন্যশীপ এ্যামেন্ম্ডমেণ্ট এ্যক্ট ইত্যাদি পাশ হতোনা। এক কলমের খোঁচাতেই তারা এগুলোকে ডাস্টিবিনে ফেলে দিতেন। কলমের জোর বেশী বলেই আজ আম্রিকা সুইজারল্যান্ডের দ্বারস্থ হয়ে সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় আপাতঃ আম্রিকা আর ইরানের যুদ্ধ ঠেকায় ।

    আপনাকে বলা হয়েছিলো জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর জন্য ফরজ। আপনি শুনেননি। আপনি প্রতিটি পাড়ায় মহল্লার কোণে কোনে চাকচিক্যময় মসজিদ বানিয়েছেন- কিন্তু ভালো একটা লাইব্রেীরি বানাতে পারেননি। পাঁচওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়বেন। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুনতো কবে আপনি চিন্তাশীলতা তৈরি করতে পাঁচখানা বই পড়েছেন। গত পাঁচ বছরে আপনি কতবার লাইব্রেরিতে গিয়েছেন? আপনার কোরআন- হাদীস কেউ পড়বেনা। পড়বে আপনাকে, আপনার সমাজকে, আপনার মেধাকে, আপনার যোগ্যতাকে। আপনাকে ওপরে ওঠার টুলস/মই দেয়া হয়েছিলো।

    কিন্তু আপনি জানেন না সেই মই কীভাবে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ওপরে ওঠতে হয়। মই আপনি মাটিতে ফেলে রেখে- ওপরে লাফাচ্ছেন। কাজেই, আপনি মার খাবেন নাতো কে খাবে? আপনার অধঃপতন হবে না তো কার হবে? নিজেদের যোগ্যতা নিজেরা তৈরি করতে না পারলে কার এমন ঠেকা পড়েছে- আপনার কর্তৃত্ব , আপনার যোগ্যতা মেনে নিতে? প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে বিধর্মীকে মুসলমান বানানোর সেলিব্রেশন আপনি করেন। কিন্তু মনে কি পড়ে শেষ কবে একজন ভালো সায়েন্টিস্ট, একজন ভালো গবেষক, একজন ভালো চিন্তক বানানোর সেলিব্রেশন আপনি করেছিলেন?

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভিপি নুরের বিলাসী জীবন!

    ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আমরা