• শিরোনাম

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ মায়ের কথা কে পৌঁছাবে?

    মানচিত্র ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ২:৩৭ অপরাহ্ণ

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ মায়ের কথা কে পৌঁছাবে?

    ‘‘সব বাবা-মা চায় সন্তান সুস্থ হয়ে জন্মগ্রহণ করুক। বেড়ে উঠুক নিজের মতো। কিন্তু আমাদের কপাল মন্দ। টেলিভিশনে দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় অনেকেই সুস্থ হয়েছেন। আমার বিশ্বাস, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সহযোগিতার হাত বাড়ালে হয়ত আমার ছেলেকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু আমার মতো হতভাগী মায়ের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে কে?’

    কথাগুলো পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা উত্তরপাড়া গ্রামের পারভীন আরা নামে এক মায়ের। তার তের মাস বয়সী ছেলে নাঈম হোসেন রনি হাইড্রোসেফালাস নামক মস্তিস্কজনিত বিরল রোগে আক্রান্ত। শিশুটির মাথা ক্রমেই শরীরের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে। অসহ্য যন্ত্রণায় সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে শিশুটি।

    দিনমজুর বাবা নাজমুল আলী ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখন এনজিওর ঋণ ও সুদের টাকার ভারে জর্জরিত তিনি। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারার আক্ষেপ কাজ করলেও হাল ছেড়ে দিয়েছেন অসহায়ি এই বাবা। আর ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে বিলাপ করছেন পারভীন আরা।

    সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় আলট্রসনোগ্রাফি রিপোর্টে অসঙ্গতি পান চিকিৎসক। এর কিছুদিন পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় নাঈম হোসেন রনির। জন্মের পর থেকেই অসুস্থ হতে থাকে শিশুটি। দিনমজুর বাবা সাধ্যানুযায়ী চিকিৎসকের কাছে বিভিন্ন জায়গায় বার বার নিয়ে যান।

    কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই তার মাথার আকৃতি বাড়তে থাকে। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়ির গরু, স্ত্রীর গহনা বিক্রি, এনজিও থেকে ঋণ, সুদে টাকা নিয়ে এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন নাজমুল আলী। সর্বশেষ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেলের কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেছেন, রনি হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসা খরচও ব্যয়বহুল।

    কিন্তু দিনমজুরি করে নাজমুল আলী যা উপার্জন করেন তাই দিয়ে সংসার চালানো এবং এনজিওর কিস্তি দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে ছেলের চিকিৎসা করানো কোনোমতেই সম্ভব নয়! তাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

    এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরমিলা আক্তার ঝুমি জানান, হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত ওই শিশুটি চিকিৎসা করালে শতভাগ না হলেও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য শিশুটির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে এই রোগের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল।’

    সহযোগিতার জন্য শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে ০১৭৫৫-৪৪০০৮২ এই নম্বরে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভিপি নুরের বিলাসী জীবন!

    ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
  • ফেসবুকে আমরা

  • You cannot copy content of this page