• শিরোনাম

    নেতাকর্মীদের সৎ ভাবে জীবনযাপনের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ

    নেতাকর্মীদের সৎ ভাবে জীবনযাপনের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর কখনও কোনো হায়েনার দল বাংলাদেশের মানুষের বুকে চেপে বসতে পারবে না। রক্ত চুষে খেতে পারবে না।

    কোনো দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী, আগুন নিয়ে যারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তারা আর কখনও এ দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

    শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহানগর সম্মেলনের মঞ্চে এসে পৌঁছান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা।

    এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে মঞ্চের পাশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি।

    জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দলগুলো সৃষ্টি হয়েছে অবৈধভাবে, ষড়যন্ত্র করে। ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসে থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে এ দলগুলো গঠন করা হয়েছে। এ দলগুলো মাটি থেকে গড়ে ওঠেনি। কোনো বিরোধী দলে থেকেও গড়ে ওঠেনি। এ দলগুলো মানুষের কথা চিন্তা করে গড়ে ওঠেনি। মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের উপকার করা, এগুলো তারা বোঝে না।

    শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম- সেই চিন্তা করতে হবে। জনগণকে কী দিতে পারলাম- সেই চিন্তা করতে হবে। জনগণের কল্যাণ কিসে হবে- সেই চিন্তা করতে হবে। জনগণের অর্থ ভোগ-বিলাসে ব্যয় হবে না। জনগণের অর্থ জনগণের জন্য ব্যয় হবে। আজ আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি, এটা অব্যাহত থাকবে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ। এর আগে প্রধান অতিথি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। আলোচনার শুরুতে সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করা হয়।

    সম্মেলনে মহানগর নেতা সালাহউদ্দিন বাদল মতিন ভূঁইয়ার পরিচালনায় ছিল সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পর্ব। ধর্মীয় গ্রন্থপাঠের মধ্যদিয়ে বক্তৃতা পর্ব শুরু হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন উত্তর ও দক্ষিণের দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল এবং গোলাম রাব্বানী বাবলু।

    এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলন স্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। এতে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

    সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাসহ মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণ, ৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হন।

    বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে (কাউন্সিল অধিবেশন) অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    টাকা বানানো একটি রোগ অসুস্থতা-মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যে একবার টাকা বানাতে থাকে তার বারবার টাকা বানাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এ টাকায় শান্তিতে ঘুমানো যায় না।

    তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করবেন, বিলাসবহুল জীবনযাপন করবেন, আর কেউ সৎভাবে ও সাদাসিধে জীবনযাপন করে জীবনটা নিয়ে কষ্ট পাবেন, তা হতে পারে না। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি- পোলাও খাওয়া আর ‘ব্র্যান্ড’ পরা থেকে সাদাসিধে জীবনযাপন করা অনেক সম্মানের। অন্তত সারাক্ষণ অবৈধভাবে চোরা টাকা, এটা মনে আসবে না; শান্তিতে ঘুমানো যাবে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, কিন্তু ওই টাকার (অবৈধ) ফলে ছেলেমেয়ে বিপথে যাবে। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা নষ্ট হবে, মাদকাসক্ত হবে। সেগুলো দেখার সময় নেই। টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে তো নিজের পরিবার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ ধরনের একটা সামাজিক অবস্থা আমরা চাই না। আমরা চাই সৎ পথে কামাই করে যে চলবে, সে সম্মানের সঙ্গে চলবে। সৎ পথে কামাই করে যে থাকবে সে সমাজে সম্মান পাবে।

    আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে সৎ ভাবে জীবনযাপন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চোরা টাকা, দুর্নীতির টাকা নিয়ে যতই বিলাসিতা করুক মানুষ মুখে হয় তো বাহবা দেবে, পেছনে হয়তো একটা গালিও দেবে- ‘ওই বেটা দুর্নীতিবাজ, চোর।’ সেই গালিটা হয়তো শোনা যাবে না, বোঝা যাবে না। কিন্তু সেই গালিটা খেতে হয়। একথাটা মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা সারা জীবন সাদাসিধে জীবনযাপন করে গেছেন। কাজেই আপনারা যারা তার আদর্শের সৈনিক সেই অনুযায়ী চলতে হবে।

    নির্বাচন নিয়ে বিএনপির তোলা প্রশ্নের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বিএনপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোট ও ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। কেমন নির্বাচন তারা করেছিল। সেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। তাদের কথাই ছিল ১০টা হোন্ডা, ২০টা গুণ্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল জেনারেল এরশাদও।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করেছিল, প্রধানমন্ত্রী করেছিল, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেই একই কাণ্ড ঘটাল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া একটা নির্বাচন করেছিল। যে নির্বাচনে বাংলাদেশের কোনো দল অংশ নেয়নি। সেটা একটা সাজানো নির্বাচন ছিল। সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি নির্বাচন করল। যেখানে বোধ হয় দুই শতাংশ ভোটও পড়েনি। জনগণের ভোট চুরি করে নির্বাচন করে নিজেকে তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিল।

    তিনি বলেন, ভোট চুরি করে খুনি রশিদকে নির্বাচিত করল। কর্নেল রশিদ ও মেজর হুদাকে নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে বসাল। খুনি রশিদকে খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতার সিটে বসিয়ে দিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই ক্ষমতায় বেশি দিন থাকতে পারেনি। ভোটচুরির কারণে মাত্র দেড় মাস ক্ষমতায় ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়, ৩০ মার্চ তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

    শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার রুখে দিতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। এরশাদও জিয়ার পথ অবলম্বন করে ক্ষমতা দখল করল। তার থেকেও একধাপ এগিয়ে খালেদা জিয়া। তিনি ’৯৬ সালে সাজানো নির্বাচন করলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের এমপি-মন্ত্রী করলেন। যারা এভাবে খুনিদের মদদ দিতে পারে, তারা গণতন্ত্রের কথা কিভাবে বলে।

    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাজ ছিল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা। বাংলাদেশ যেন কখনও এগিয়ে যেতে না পারে এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তাদের আমলে ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ ও পানির হাহাকার দেখা দেয়। আজকে ঢাকা শহরের পানির চাহিদা আমরা পূরণ করছি। আমরা আরও পানি শোধনাগার করছি। এখন ঢাকা শহরে কেউ এলে দেখবে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শহরের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে।

    এ সময় জাতির পিতারকন্যা নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। আপনাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কলা খেয়ে রাস্তায় খোসা ছুড়ে ফেলা যাবে না। বাস থেকে খাবার খেয়ে বাইরে ফেলা যাবে না। প্রয়োজনে বাসে বিন রাখতে হবে। নিজেদের শহরকে নিজেদেরই পরিষ্কার রাখতে হবে। বিনোদনের জন্য শহরে খেলার মাঠ রাখতে আমরা কাজ করছি। মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করেছি।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে সম্মান পাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা যদি ওরকম বিলাসবসনে গা ভাসাতাম, এ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতো না। এ বাংলাদেশ বিশ্বে সম্মান পেত না।

    তিনি বলেন, এ সম্মানটা ধরে রাখতে হবে। আগামীতে যারা নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন, নেতৃত্বে আসবেন তাদের সেই কথাটাই মনে রাখতে হবে যে, আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। যে ত্যাগের মহিমা জাতির পিতা দেখিয়ে গেছেন সেই পথ ধরে চলতে হবে।’

    রাজনীতি কেনাবেচার পণ্য নয় : বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতি কেনাবেচার পণ্য নয়। রাজনীতি আপন ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার নয়। শেখ হাসিনা আমাদের এমন শিক্ষাই দিয়েছেন। রাজনীতি জনগণের ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন সেই শিক্ষা শেখ হাসিনা আমাদের অনুসরণ করতে বলেছেন। একজন রাজনীতিকের মানুষের ভালোবাসা পাওয়া ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই। অনুকরণ করতে হবে। শেখ হাসিনার চেয়ে সৎ রাজনীতিক পঁচাত্তরের পর একজনের নাম কেউ বলতে পারবে না।

    কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী যে শুদ্ধি অভিযানের সূচনা করেছেন এ শুদ্ধি অভিযান সফল করতে হবে। মনে রাখবেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আর বেশি দূরে নয়। এ সম্মেলন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার শপথ নিতে হবে। সেই লক্ষ্যে আপনাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ভিপি নুরের বিলাসী জীবন!

    ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

    পৃথিবীর যে দেশে কোন সাপ নেই?

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আমরা