• শিরোনাম

    ‘নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব’

    মানচিত্র ডেস্ক | ০৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৪:০০ অপরাহ্ণ

    ‘নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব’

    নিহত আবরার ফাহাদ (বাঁ থেকে) ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করার ঘটনায় বাংলাদেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। এর প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ড শোবিজ অঙ্গনের তারকাদেরও আবেগঘন করে তুলেছে।

    আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফেসবুকে মঙ্গলবার দুপুরে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন।

    পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ‘৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারা জীবন তার মুখে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যেকোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।

    এই প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরার-এর কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দু’টোর পিঠ হাত-পা’র উপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এরকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে! একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি “মা গো” বলে চিৎকার দিয়েছিল? “মা গো” ডাক শুনে খুনী ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মা-এর কথা মনে পড়েনি! ঠিক কতবার.., কতক্ষণ ধরে.., কতটুকু আঘাত করলে ২০/২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়! আমি আর ভাবতে পারি না।’

    স্ট্যাটাসে শাওন আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কি ভয়ংকর! কি নৃশংস! কি কষ্ট! এই ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনী অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ।’

    সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব, বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না তবুও, বিচার চাই।’

    উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

    নিহত ফাহাদ বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পৃথিবীর যে দেশে কোন সাপ নেই?

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আমরা