সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>

খারাপ সময়ে মন ভালো রাখবেন যেভাবে

মানচিত্র ডেস্ক   |   শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | 821 বার পঠিত | প্রিন্ট

খারাপ সময়ে মন ভালো রাখবেন যেভাবে

প্রতীকি ছবি

অসুস্থতার সময় পছন্দের অনেক কিছুই যেন ভালো লাগে না, প্রায়ই মন খারাপ হয়ে থাকে। কিন্তু এই খারাপ লাগার সময়গুলোকে কিছু কাজের মাধ্যমে ভালো থাকায় রূপান্তর করা যায়।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক কী সেই উপায়গুলো-

মিউজিক থেরাপি : গান হোক বা কোনো ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক, সুরের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। আর সুফলও অনেক। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভালো মিউজিক শুনলে হার্ট রেট ইমপ্রুভ করে, মস্তিষ্কের স্টিমুলেশন ভালো হয়, টেনশনও কমে। ফলে ক্লান্তি কেটে যায়। মানসিকভাবে একজন রোগী অনেকটাই সজীব হয়ে ওঠেন। চিকিৎসার পাশাপাশি চলতে পারে মিউজিক থেরাপি। কিছু ক্ষেত্রে আবার রোগীকে লাইভ মিউজিক শোনানো হয়। এই ধরনের থেরাপি নাকি অনেক বেশি সহায়ক।

বন্দী নয় : অসুখ করলে বাড়িতে বন্দী হয়ে কিছুদিন তো কাটাতেই হয়। চার দেয়ালের মধ্যে দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে শরীর-মন আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে চলাফেরা বন্ধ না হলে, দিনে একবার কারও সাথে বাইরে থেকে কিছুক্ষণের জন্য একটু ঘুরে আসতে পারেন। রাস্তায় বেরোনোর উপায় না থাকলে অন্তত বাড়ির বারান্দায় গিয়ে বসুন। সামনের সবুজ গাছ বা রাস্তায় মানুষজনকে দেখলেও মন ভাল হয়ে যায়। যে ঘরে থাকবেন, সকালে সেই ঘরের জানালাটাও খুলে রাখুন। বাইরের রোদ-হাওয়া আসতে দিন। রোগীর ঘরের গুমোট ভাব কেটে যাবে।

পেইন্টিং, রিডিং : দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার ফলে অনেক সময়ে অফিস-কলেজ বন্ধ থাকে। আবার সারা দিন বাড়িতে বসেও সময় কাটতে চায় না। তখন রং-তুলি, কাগজ, কলম টেনে নিয়ে আঁকতে বসে যেতে পারেন। কিংবা ভালো বইও পড়ে ফেলতে পারেন। গল্পের বই হোক বা কাজের বই যা ইচ্ছে নিয়ে বসে পড়ুন। একটানা পড়ে ক্লান্ত হয়ে গেলে কাউকে ডেকে পড়ে শোনাতে বলতে পারেন।

গল্প-গুজব : মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ভাবের আদান-প্রদান। ফলে কথা না বলে বা না শুনে মানুষ থাকতে পারে না। তাই ফোনে হোক বা সামনাসামনি রোগীর সঙ্গে গল্প করুন। তবে তা যেন নিখাদ গল্পই হয়। রোগবালাই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

খাবার : এমন অনেক খাবার আছে, যা চোখের পলকে মুড ভাল করে দেয়। চকলেট, কফি, বিভিন্ন হার্বসও মেজাজ ভালো রাখে। তবে অসুখ অনুসারে অনেক খাবারে বিধি-নিষেধও থাকে। তাই নিজের শরীর বুঝে দিনে একবার পছন্দের কোনো খাবার খেতে পারেন। কিন্তু নানা অসুখে বিভিন্ন খাবার বন্ধ থাকে। তাই কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিশ্রাম : অসুখ সারাতে এটি সবচেয়ে বেশি জরুরি। অনেক সময়েই বই পড়া বা টিভি দেখার মতোও শারীরিক অবস্থা থাকে না। সে সময়ে বিশ্রাম নেওয়াই ভাল। ঘুমিয়ে নিলে শরীর বিশ্রামও পাবে, সুস্থও হবে তাড়াতাড়ি। মানসিকভাবেও বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই জেগে থাকলেও নিজের অসুখ নিয়ে চিন্তা করবেন না। কবে সারবে? কবে বেরোবেন? এসব যত ভাববেন, ততই মানসিকভাবে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন। ফলে বিরক্তি বাড়বে। তাই যথাসম্ভব অসুখের বাইরে অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিন।

পাজল, ইনডোর গেমস : পত্রিকায় নানা ধরনের ক্রসওয়ার্ড, সুডোকু, পাজল, কুইজ, ধাঁধা ইত্যাদি নানা ব্রেইনগেম থাকে। সেগুলো খেললে সময় তো কাটবেই, মাথাও খেলবে ভাল। সঙ্গী পেলে দাবা, লুডো ইত্যাদি বোর্ডগেম নিয়েও বসে পড়তে পারেন। সেলাই, উল বোনা, সিনেমা দেখা, অনেকভাবেই সময় কাটাতে পারেন। শরীরের অবস্থা কেমন, সেই অনুসারে বেছে নিন আপনার মন ভাল রাখার দাওয়াই।

সঙ্গসুধা : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঙ্গ। যেকোনো অসুখেই কেউ সঙ্গে থাকলে শক্তি পাওয়া যায়।

এ ছাড়া রোগীর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া এবং ঘুম জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটা দিন পথ্য মেনে চলুন। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের নিজের সমস্যার কথা বারবার বলার চেষ্টা করবেন না। যে আপনার বিষয়ে সচেতন সে নিজেই যতœ নেবে। অসুখের দিনগুলো বিমর্ষ হয়ে না কাটিয়ে বই পড়া, সিনেমা দেখা, ঘুমানো, নিজের মতো করে যতটা পারবেন, সময় কাটিয়ে নিন। চেষ্টা করুন, ছুটির মেজাজে দিন কাটাতে। এতে সময় কাটবে তাড়াতাড়ি।

অসুখ যাই হোক না কেন, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যেমন ওষুধ প্রয়োজন, তেমনই দরকার প্রিয়জনের সাহচর্য। তা হলেই কেটে যায় অসুখী সময়। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:০৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

manchitronews.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
A H Russel Chief Editor
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

5095 Buford Hwy, Suite H Doraville, Ga 30340

E-mail: editor@manchitronews.com