সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>

আর কত মা বোনের আর্তনাদ শুনবো?

এ এইচ রাসেল , আটলান্টা , জর্জিয়া   |   মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০ | 1181 বার পঠিত | প্রিন্ট

আর কত মা বোনের আর্তনাদ শুনবো?

সিলেটের এম সি কলেজ আর নোয়াখালীর বেগম গঞ্জের ন্যাক্কার জনক ঘটনা আবার নতুন করে হতবাক করেছে গোটা  জাতিকে। কেন এহেন ঘটনার লাগাম টানা যাচ্ছে না তা নিয়ে বিশ্লেষণের প্রয়োজন? একটি সভ্য দেশ কেন বার বার কিছু মানুষরূপী জানোয়ারদের কাছে হোঁচট খায় তার কারণ বের করা উচিত সর্বোচ্চ মহল থেকে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ভ্রমণে একটি চিত্র আমার নজর কেড়ে ছিল। এক শ্রেণীর উঠতি বয়সী কলেজ পড়ুয়া বা প্রাইমারি-হাইস্কুল পাশ বখাটে ছেলেদের চরম বেপরোয়া হয়ে উঠা ছিল সমাজের চোখে দৃশ্যমান। যেহেতু এখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় তাই এই দলের নেতা কর্মীর খাতায় তারা নাম লিখিয়ে প্রথমেই যেন অপরাধ জগতের লাইসেন্স পাওয়া যায়।

তারপর শুরু করে গাঁজা , ইয়াবা সেবনসহ নানা কুকীর্তি।এলাকার গণ্য মান্য ব্যক্তি তো দূরের কথা নিজ মা বাবাও হয়ে পরে তাদের কাছে অসহায়।স্থানীয় দলীয় নেতা চেয়ারম্যান মেম্বারদের আস্কারায় তারা হয়ে ওঠে অপরাধ জগতের লাগামহীন নেতা। তখন তারা যা কিছু করুক না কেন সব হয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে ।

আমার জানা মতে এ দৃশ্য শুধু সিলেট আর নোয়াখালীই নয় এ যেন সাড়া বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চল ও কলেজগুলোর এক নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এই বখাটে ছেলেদের আবার সখ্যতা থাকে পুলিশের সাথে।দায়িত্বরত পুলিশের দারোগাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে অনেক এলাকায়। কালে ভদ্রে এদের খোঁজে থানা থেকে কোনো টিম গেলে তারা আগেই খবর পেয়ে যায়।

এদের রয়েছে চেইনের মতন সম্পর্ক। বাংলাদেশে সম্পর্ক নামক শব্দটা যে কোনো অন্যায়ের প্রতিকার হিসেবে টনিকের মতন কাজ করে।সরকারী-বেসরকারী অফিসে যে কোনো কাজে গেলে সম্পর্কের লিংক কোনো না কোনো ভাবে পাওয়াই যায়। আর সবার উপরে ঘুষ সত্য তাহার উপরে নাই তা তো রয়েছেই।

আসলে পুরো ব্যাপারটা যেন সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দেবো কোথা। তাই দুই একটা ঘটনা ছিটে ফেটে আমাদের কাছে আমরা শোকাহত হই, দেশ আন্দোলনে নেমে পরে, দুই চার দিনের জন্য দেশ উত্তাল থাকে তখন আসামি গ্রেফতার হয় বটে, কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলে তারা আবার বীরদর্পে বেরিয়ে যায়।প্রত্যেকটি অপরাধের প্রথম পর্বে আমরা গ্রেফতার দেখেছি কিন্তু শেষ পর্ব আমাদের অজানা থেকে গেছে।

তবে আমাদের মন কে শক্ত করতে হবে আবার আর একটি পৈচাশিক ঘটনা হজম করার জন্য কারণ দেশের জন্য আইন নয় আইনের জন্য দেশ। বুঝতে হবে বাংলাদেশ নামক দেশে সব সম্ভব।এখানে রাতে সংসদ বসবে রাজনীতিবিদদের স্বার্থে আইন পাশ হবে নিজ নিজ দলের স্বার্থ রক্ষার স্বার্থে কিন্তু সাধারণ মানুষের নূন্যতম সম্মান সম্ভ্রম বাঁচাতে সংসদ অধিবেশ বসেনা, মৃত্যু দন্ডের মতো সর্বোচ্চ আইন পাশ হয় না।

রাজনীতিবিদরা মনে হয় মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন তারা মাঠে ময়দানের আসল খবর জানতে চান না।রাষ্ট্রীয় খরচে দিন যাপন করা সেই সব রাজনৈতিক উপদেষ্টা , মন্ত্রী , সরকারী আমলারা মনে হয় নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। জনতার কাতারে এসে তারা তাদের দাবি মানতে চান না। এমন কী প্রধানমন্ত্রীকে হয়তো সঠিক পরামর্শটিও দেন না।

তবে বাংলাদেশের অনেক ঘটনার প্রতিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমাধান হয়েছে। তবে সকল ক্ষত্রে যদি তার উদ্যোগ নিতে হয়, যদি প্রতিটা বিষয় তাকেই দেখভাল করতে হয় তাহলে ৩০০ এমপি, মন্ত্রী বা আমলা ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাজটা কী ?

যাই হোক ফিরে আসি নোয়াখালী সিলেটে প্রসঙ্গে, এরূপ ঘটনার প্রতিকার হিসেবে রাষ্টের আইন পরিবর্তন করে দুই চারটা ফাঁসিতে ঝুলালে কী এমন ক্ষতি হবে? বরং দেশ ও সরকারের ইমেজ ফিরে আসবে। জনগণ খুশি হবে, ভরসা পাবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ,মানুষ ভয় পাবে। কিন্তু এ জন্য আমাদের আর কতটি বছর অপেক্ষা করতে ?

আর কত মা বোনের আর্তনাদ শুনবো ? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য রাষ্টের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয় না শুধু ব্যয় হয় একটু সদিচ্ছার। আর তা না হলে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের পদ্মা সেতু , মেট্রো রেল সহ দেশ ব্যাপী উন্নয়নের সব যাত্রা মানুষের কাছে ফিকে মনে হবে। কারণ মানুষ দিন শেষে আরামে ও নিরাপদে থাকতে চায়, বাঁচতে চায়।

এ এইচ রাসেল ,
আটলান্টা , জর্জিয়া

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০

manchitronews.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
A H Russel Chief Editor
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

5095 Buford Hwy, Suite H Doraville, Ga 30340

E-mail: editor@manchitronews.com