• শিরোনাম

    ‘আবরারের কথা মনে হলেই নিজের সন্তানের মুখ ভেসে উঠছে’

    এএইচ রাসেল | ১০ অক্টোবর ২০১৯ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ

    ‘আবরারের কথা মনে হলেই নিজের সন্তানের মুখ ভেসে উঠছে’

    বুয়েটের ছাত্র আবরার কে নিয়ে আমার এই তৃতীয় লেখা। ঘটনা জানার পর থেকে মাথা থেকে ছেলেটির মর্মান্তিক মৃত্যু কাহিনী এখনো যায় নি। আবরার আমার সন্তানদের চেয়ে ২/৩ বছরের বড়। তাই আবরার এর কথা মনে আসলেই নিজ সন্তানের মুখ ভেসে উঠছে। একজন বাবা হিসেবে অনেক কষ্ট পাই তাই আবরার কে নিয়ে বারবার লেখি।

    আমার মতো কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের রক্তক্ষরণের নাম আজ আবরার। দেশ বিদেশের প্রতিটি বাঙালী হতবাক। একজন ছাত্র, একজন সহপাঠি, একজন বন্ধু কীভাবে এতটা নির্মম হতে পারে; যার হিসেবে কোনো ভাবে মেলানো যাবে না।

    তাও একজন নয় বেশ কয়েকজন জড়িত এই মর্মান্তিক ঘটনার সাথে। আমার একটা ভুল ধারণা ছিল, অশিক্ষিত মানুষরা বুঝি কান্ড জ্ঞানহীন কাজ বেশি করে। তাদের মধ্যে বুঝি মানবিক মূল্যবোধ কম থাকে। এখন দেখছি আমিই মূর্খ তাই আমার ধারণা ভুল।

    সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে মেধাবী ছাত্ররা এহেন কাজ কেন করছে তা নিয়ে আমার বেকুব মাথায় নানা চিন্তা ভাবনা ঘোরপাক খায়। এর জন্য কী পরিবার দায়ী ? নাকি শিক্ষক ও স্কুল দায়ী ?জানতে খুব ইচ্ছে করে?

    বিষয় গুলি আর রাজনৈতিক ভাবে একে অন্যকে চাপিয়ে না দিয়ে এর সমাধান এখন সময়ের দাবি। ছাত্র রাজনীতি, গ্রূপিং থাকতেই পারে পদ পদবীর প্রতিযোগিতা হতেই পারে তাই বলে একজনকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিতে হবে।

    ছিঃ আমাদের ছাত্র সমাজ, ছিঃ! ধিক্কার জানাই যারা ছাত্র নামকে কলংকিত করেছো তাদের কে। কিন্তু এ থেকে উত্তরণের সমাধান কী ?

    আমার মনে হয় প্রাইমারী ও হাইস্কুলের শিক্ষকরা তাদের পাঠ্য বই পাঠদানের পর দশ মিনিট যদি ন্যায়, নীতি,আদর্শ, সততা, নিষ্ঠা, সৎ চরিত্র, আচার আচরণ ও সর্বোপরি মানবিক মূল্যবোধের কথা ছাত্রদের শেখানো হয় তাহলে, হয়তো তারা বড় হয়ে মানুষ রুপী দানব বা জানোয়ার নাও হতে পারে (যদিও এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত)।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো স্কুলে তো ক্লাস হয়না? সবাই কোচিং নির্ভর! তাহলে কে কাকে শেখাবে?

    আমাদের সময় যখন স্কুলের যেতাম দেখতাম চারিদিক থেকে ছাত্র/ছাত্রীরা দল বেঁধে স্কুলে আসতো। স্কুলে রোল কল করা হতো। অনুপস্থিত থাকলে বাড়ি থেকে দরখাস্ত আনতে হতো। যত গুলি বই তত গুলি ক্লাশ হতো।

    সেই প্রাইমারী থেকে ইসলাম ধর্ম-হিন্দু ধর্মের বই থাকতো ও ক্লাস হতো আলাদা ভাবে। পুরো স্কুলটা ছাত্র ছাত্রী আর শিক্ষকে ভোঁ ভোঁ করতো। এসব এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সব কিছুই যেন মরা মরা ভাব।

    মানবিক মূল্যবোধের অনেকখানি নির্ভর করে পরিবার ও স্কুল শিক্ষার উপর। এখন স্কুল আছে নাম মাত্র পড়াশুনা সব নাকি প্রাইভেট ও কোচিং নির্ভর। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার।

    বেশি আধুনিক না হয়ে বা পশ্চিমা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফলো না করে আমাদের ৭০/৮০/৯০ দশকের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা উচিত। হয়তো আবার ফিরে পাবে ছাত্রদের ছাত্র জীবন আর মানবিক মূল্যবোধ।

    লেখক- এএইচ রাসেল ( সম্পাদক ও প্রকাশক, মানচিত্র নিউজ ডট কম)

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পৃথিবীর যে দেশে কোন সাপ নেই?

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আমরা