• শিরোনাম

    অশ্রুসিক্ত বিদায় সেই টাইগারের

    মানচিত্র ডেস্ক | ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ১:১৮ অপরাহ্ণ

    অশ্রুসিক্ত বিদায় সেই টাইগারের

    ৩০ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়ে আলোচনায় আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৪২ মণ ওজনের সেই আলোচিত ষাঁড় গরু ‘টাইগার’কে অবশেষে জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

    এরআগে শনিবার বিকেলে গোয়াল ঘরে পা পিছলে দুই পা ভেঙ্গে যায় টাইগারের। এতে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে গরুটি। বিমর্ষ হয়ে পড়েন টাইগারের মালিক মিনারুল ইসলাম ও স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা। ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি। পরে অনিচ্ছা স্বত্তে¡ও কিছুটা লোকসান ঠেকাতে প্রিয় ষাঁড় গরুটি জবাই করতে বাধ্য হন মালিক মিনারুল ইসলাম।

    বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে টাইগারের গোস্ত বিক্রি করা হয়। এ খবর শুনে মিনারুলের বাড়িতে ভীড় জমায় উৎসুক জনতা। প্রিয় গরুটির জন্য স্বজন, গরু লালন পালনকারী শ্রমিক, উপস্থিত মানুষদের অনেকের চোখই ছিল অশ্রুস্বজল।

    সরেজমিনে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছোট গুয়াখড়া গ্রামের মিনারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টাইগারকে জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানোর কাজ করছেন কসাইরা।

    সেখানে ভীড় জমেছে হাজারো উৎসুক মানুষের। তারা যেন শেষবারের মতো টাইগারকে দেখছেন। উপস্থিত সবারই মন ছিল বিষন্ন।

    গরুটির মালিক মিনারুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল চারটার দিকে গোয়াল ঘরে পা পিছলে পড়ে যায় টাইগার। এতে পিছন ও সামনের ডান পা দু’টি ভেঙ্গে যায়। এতে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে টাইগার। পরে স্বজন ও প্রতিবেশি সবার পরামর্শে জবাই করে গোস্ত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মিনারুল ও তার স্ত্রী জাকিয়া বলেন, টাইগারকে সন্তানের মতো লালন পালন করতাম। তাকে এভাবে হারাতে হবে বুঝতে পারিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো।

    এদিকে পাঁচশ’ টাকা কেজি হিসেবে মাংস কিনতে দুর-দুরান্ত থেকে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে। সবার ধারণা মোট মিলিয়ে ২৫-২৬ মণ গোস্ত হতে পারে টাইগারের। সে হিসেবে দাম আসবে ৫ লাখ টাকা।

    উল্লেখ্য, ৯ ফুট দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটির ওজন হয়েছিল ৪২ মন। কালো আর সাদা রঙ মিশ্রিত সুঠাম স্বাস্থ্যর অধিকারী ষাঁড় গরুটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘টাইগার’। কোরবানির আগে টাইগারের দাম ৩০ লাখ টাকা হেঁকে আলোচনায় আসেন খামারী মিনারুল ইসলাম।

    এ বছর ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঈদুল আযহার হাটে টাইগারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৮ লাখ টাকা। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন খামারী মিনারুল।

    ইচ্ছা ছিল আরো এক বছর লালন পালনের পর আগামী ঈদুল আযহায় টাইগারকে বিক্রি করা। কিন্তু তার সে ইচ্ছা আর বাস্তবায়ন হলো না। অনেক টাকা লোকসান হলো বলে দাবি মিনারুলের।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আমরা