আজ সোমবার | ১৭ জুন২০১৯ | ৩ আষাঢ়১৪২৬
মেনু

ক্রমশই ছোট হচ্ছে চাঁদ!

মানচিত্র ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৯ | ৩:২৩ অপরাহ্ণ

বয়স বাড়ছে। তাই একদিকে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বলিরেখা, আরেকদিকে তেমনই বাড়ছে কম্পন। না কোনও মানুষের নয়, কথা হচ্ছে চাঁদকে নিয়ে। বিজ্ঞান পত্রিকা নেচার জিওসায়েন্স স্থানীয় সময় সোমবার চাঁদের ১২০০০ নতুন ছবি এবং অ্যাপোলো মহাকাশযানের সিসমোমিটারের তথ্য প্রকাশ করেছে।

নাসার লুনার রেকন্সাঁ অর্বিটারের পাঠানো ওই ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠে বলিরেখা বাড়ছে। তার সঙ্গেই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে চন্দ্রকম্প।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, চাঁদে পৃথিবী মতো টেকটনিক প্লেট নেই। তাই কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গেই কুঁচকে গিয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠতল।

আর যেহেতু চাঁদের পৃষ্ঠ ভঙ্গুর সেহেতু যেস্থানেই টান পড়েছে, সেই স্থানই ভেঙে গিয়েছে। এভাবেই ভাঙতে ভাঙতে আগের তুলনায় আকারে অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে চাঁদ।

পৃষ্ঠ কুঁচকে বলিরেখা পড়ে চাঁদের বুকে খাড়াই সিঁড়ির মতো ভাঁজ তৈরি হয়ে গিয়েছে। সারা চাঁদের এখন এধরনের কয়েক ভাঁজ আছে।

২০০৯ থেকে এপর্যন্ত অর্বিটার প্রায় ৩৫০০টি ছবি নিয়েছে চাঁদের অবতলের।

বিজ্ঞানীরা আরও জানাচ্ছেন, আজ চাঁদের পৃষ্ঠতল আগের থেকে প্রায় ৫০ গুণ বেশি বলিরেখাময়। আর যত পৃষ্ঠ কুঁচকে যাচ্ছে ততই বেড়ে যাচ্ছে কম্পন। অ্যাপোলো ১১, ১২, ১৪, ১৫ এবং ১৬ মহাকাশযানের পাঠানো ছবিতে দেখা যাচ্ছে ১৯৬৯–১৯৭৭ পর্যন্ত চাঁদে ২৮বার কম্পন হয়েছে।

তার মধ্যে আটটি কম্পন হয়েছে খাড়াই ভাঁজগুলিতে।

গবেষকরা মনে করছেন চাঁদে এখনও কম্পন হওয়ার কারণ এই প্রক্রিয়া আজও বর্তমান।

কারণ, নাসার অর্বিটারের পাঠানো ছবিতে যে ধস এবং পাথরের ভগ্নস্তুপের উজ্জ্বল ছবি দেখা যাচ্ছে তা পরিষ্কার ইঙ্গিত করছে সেগুলি সদ্য ঘটেছে।

বিকিরণ এবং ক্ষয়ের ফলে পুরনো ভাঙনগুলি অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে।

এই কম্পনের কয়েকটার মাত্রা রিখটার স্কেলে সাত পর্যন্ত ছুঁয়েছে। যখন চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর থেকে সব থেকে দূরে থাকে তখন জোয়ারভাটার জন্য পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের চাপে চাঁদের পৃষ্ঠতলে আরও ভাঙন ধরে। আর এভাবেই ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে আমাদের চাঁদ-এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ‌‌

সূত্র-আজকাল

Comments

comments

x