আজ রবিবার | ১৯ মে২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ১৪২৬
মেনু

সভ্যতা থেকে অনেক দূরে এই অধ্যাপকের জীবন

মানচিত্র ডেস্ক | ১৫ মে ২০১৯ | ২:৫৬ অপরাহ্ণ

ছবি-সংগৃহীত

গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা যায় কী?‌ স্বাভাবিক উত্তর আসবে না। অনেকের বাড়িতেই এখন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসানো আছে। কারণ গরম সহ্য করা যায় না। আবার শীতের বাড়বাড়ন্তে হিটার প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু এইসবের মাঝে এমন মানুষও রয়েছেন যিনি প্রায় সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন বিদ্যুৎ ছাড়াই। অবাক হলেও সত্য ঘটনা। তবে এটা কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ না পৌঁছনোর খবর নয়। স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটিয়েছেন ভারতের এক অধ্যাপক।

বিরল হলেও এটাই সত্য ঘটনা। সাবেক অধ্যাপক হেমা সানের বয়স ৭৯।  ভারতের পুণের বুধওয়ার পেথে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই বাস করছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার পেছনে তার একমাত্র কারণ প্রকৃতি এবং পরিবেশের প্রতি অকৃত্তিম ভালবাসা।

হেমা বলেন, ‘‌খাদ্য, আশ্রয় এবং পোশাক আমাদের মৌলিক চাহিদা। এক সময়ে তো বিদ্যুৎ ছিল না। অনেক পরে মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। আমি বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে পারি।’‌

জানা গেছে, ড. হেমা সানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বা তার সাহচর্য সবই হল তার কুকুর, দুই বিড়াল, এক নেউল এবং অনেক অনেক পাখি।

বাড়ির চারপাশে থাকা বাগানে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে হেমা বলেন, ‘‌এটা ওদেরই সম্পত্তি, আমার নয়। আমি ওদের দেখাশোনা করার জন্য এখানে আছি। মানুষ আমাকে বোকা বলে। আমি উন্মাদ হতেই পারি কিন্তু এটা আমার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। কারণ এটাই আমার জীবনের অদ্ভুত পথ। আমি যেমন পছন্দ করি তেমনই জীবনযাপন করতে পারি।’‌

হেমা সানে সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পিএইচডি করেন এবং তিনি বহু বছর ধরেই পুণের গারওয়ারে কলেজে অধ্যাপনা করেন। বুধওয়ার পেথের একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন হেমা। বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং পাখি বেষ্টিত তাঁর এই পর্নকুটিরে সকাল শুরু হয় পাখিদের গান। আর রাত নামে লম্ফের আলোতে।

উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে ড. হেমা সানে অনেক বইও লিখেছেন। এমনকী যখনই তিনি তার বাড়িতে একা থাকেন তখনই তিনি নতুন বই লেখেন। পরিবেশ সম্পর্কে তার গবেষণা এমনই যে কোনও পাখি বা বৃক্ষ তার কাছে অজানা নয়।

তার কথায়, ‘‌এই পাখিরাই আমার বন্ধু এবং যখনই আমি বাড়ির কাজ করি তখনই ওরা আসে। মানুষজন প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে, ঘরটা বিক্রি করে দিচ্ছেন না কেন?‌ অনেক তো টাকা পাবেন। আমি ওদের সবসময় বলি, বিক্রি করে দিলে কে এই গাছেদের পাখিদের যত্ন নেবে? আমি বাইরে যেতে চাই না তো। আমি তো ওদেরই সাথে থাকতে চাই। আর যারা আমাকে পাগল বলে আমি তাদেরকে বুদ্ধের বিখ্যাত কথাটাই বলে থাকি। তা হল নিজের জীবনের পথ নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে।’‌

-আজকাল

Comments

comments

x