আজ বুধবার | ২৩ জানুয়ারি২০১৯ | ১০ মাঘ১৪২৫
মেনু

ফেব্রুয়ারীতে অনিবাসী প্রকৌশলীদের প্রথম সম্মেলন

মানচিত্র ডেস্ক | ১০ ডিসে ২০১৮ | ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অনিবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সম্মেলন-কনভেনশন অব এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাক্স গ্রুপের সৌজন্যে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলন সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করতে একটি বৈঠক (কোনের টাউন হল মিটিং) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসির একটি রেস্টুরেন্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল আয়োজক ব্রিজ-টু-বাংলাদেশ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন সম্মেলনের কী-নোট স্পিকার ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা ছিলেন সম্মেলনের কনভেনর, ব্রিজ-টু-বাংলাদেশ বা বিটুবি-র চেয়ারম্যান হিউস্টন, টেক্সাসের ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের কো-কনভেনর ক্যালিফোর্নিয়ার ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান, ব্রিজ-টু-বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মোহাম্মদ আলমগীর এবং নিউ জার্সির মোহাম্মাদ জামান।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা অফিস থেকে আরও ম্যাক্স গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ার সানাউল হক, ইঞ্জিনিয়ার মো. হারিসুজামান, ইঞ্জিনিয়ার দেওয়ান মাহমুদ মীম প্রমুখ। ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক তার বক্তব্যে সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল ধারণাটি এসেছে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরের কাছ থেকে। ম্যাক্স গ্রুপ এই সম্মেলনের একক উদ্যোক্তা। ব্রিজ-টু-বাংলাদেশ তার এই অসাধারণ সুন্দর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করছে মাত্র।’

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার প্যান পাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন এসডিজি মুখ্য সমন্নয়কারী আবুল কালাম আজাদ। কী-নোট স্পিকার থাকবেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।

সম্মেলনের কনভেনর ব্রিজ-টু-বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক। কো-কনভেনর ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান এবং টেকনিকাল সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল উলা। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সুইডেন, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কাতার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়াররা এই সম্মেলনকে সার্থক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে সারাবিশ্বের সব অনিবাসী বাংলাদেশি বা এনআরবি প্রকৌশলীদের। তবে বাংলাদেশের মানুষের উপকার হবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করবে -এমন যেকোনো পেপার বা প্রকল্প সম্মেলনে উপস্থাপন করা যাবে। সব প্রকল্পগুলো জার্নাল আকারে প্রকাশ করা হবে এবং এর সিংহভাগ সম্মেলনে উপস্থাপন করার সুযোগ থাকবে। পেপার পাঠানোর শেষ তারিখ ৩০ ডিসেম্বর।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সম্মেলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগকে দূতাবাস থেকে সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। কারণ এই ধরনের সম্মেলন এবং কর্মকাণ্ড বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সম্মান আরও উঁচু করবে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তার নমুনা হিসেবে এই সম্মেলন একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের মেধাবী সন্তানরা ফিরে আসছে দেশে, ব্রেইন ড্রেন বদলে হয়ে যাচ্ছে ব্রেইন গেইন– এর চেয়ে বড় সুসংবাদ আর কি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো নেই। এখন প্রচুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

usa

সম্মেলনের কী-নোট স্পিকার এবং ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে জমেছে আমাদের অনেক ঋণ। এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। আমরা যারা এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার, তারা দেশ গড়ার কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হতে চাই। আমরা আমাদের মেধা, প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাব আমাদের এই বাংলাদেশ। তাই সারাবিশ্ব থেকে সব মেধাবী এনআরবি ইঞ্জিনিয়ারদের এক জায়গায় এনে তাদের কাছ থেকে আমরা জানব, শিখব-আগামীতে কেমন হবে বাংলাদেশ, কোন প্রযুক্তি হবে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য, কীভাবে আমরা সাশ্রয় করতে পারি প্রকল্পগুলো যাতে জনগণের অর্থ অপচয় না হয়।’

বিটুবির এক্সিকিউটিভ মেম্বার মোহাম্মদ আলমগীর তার বক্তব্যে বিটুবি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিটুবি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের সব কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে ঘিরে। তাই আমাদের স্লোগান-উই আর ফর বাংলাদেশ। আগামীতে বিটুবি এই কোনের মতো আরও অনেক সম্মেলনের আয়োজন করবে। এর পরের সম্মেলন হবে সব এনআরবি ডাক্তারদের নিয়ে।’

বিটুবির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান আজাদুল হক এই টাউন হল মিটিং আয়োজন করতে সহায়তা করার জন্য রেদোয়ান চৌধুরী, এন্থনি পিউস গোমেস, আবু সরকার এবং আরিফুল ইসলামকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করেন। এরপর তিনি সবার প্রশ্নের উত্তর দেন। সভা শেষে অতিথিদের মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করা হয়।

Comments

comments

x