আজ রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর২০১৮ | ২ পৌষ১৪২৫
মেনু

বিরল রোগে আক্রান্ত তাহাবি বাঁচতে চায়

পাবনা প্রতিনিধি | ১২ নভে ২০১৮ | ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ

তাহাবি হোসেন

পুরো শরীর জুড়ে দগ দগে ঘা। প্রতিবেশীরা নাম দিয়েছে ‘পচা’। ঘা থেকে ঝরছে তাজা রক্ত। গোনা যাচ্ছে পাজরের হাড়। ঘায়ের যন্ত্রণায় কাতর শিশুটির মুখে নেই হাসি। বিরল রোগে আক্রান্ত সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম তাহাবি হোসেন।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলী ও গৃহিনী মৌসুমী খাতুন দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে ছোট তাহাবি। ছেলেকে সুস্থ করতে ডাক্তার, কবিরাজ কোন কিছুই বাদ দেননি বাবা-মা। বাড়ির পোষা গরু-ছাগল বিক্রি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

রিকশা চালক বাবা হোসেন আলী দিনমজুরি করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে মা মৌসুমী খাতুন ছেলেকে সুস্থ করতে দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন। গত রোববার দুপুরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মৌসুমী খাতুন জানান, জন্মের পর তাহাবির হাঁটুতে লাল রক্তের জমাট বাধে। পরে ফেটে গিয়ে সেখানে ঘা হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই পুরো শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘা। দেখে মনে হবে আগুনে পুড়ে গেছে শরীর। ঘায়ের যন্ত্রণায় সারারাত ঘুমাতে পারে না তাহাবি। শুধুই কান্নাকাটি করে। স্বজনরা কেউ কোলে নিতে চায় না। গায়ে ঘা বলে প্রতিবেশীরা ‘পচা’ বলে ডাকে।

ছেলের এমন কষ্ট সহ্য হয় না মা মৌসুমী খাতুনের। টানা তিন বছর পাবনা-রাজশাহী ও ঢাকায় একটি বে-সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর কোন উন্নতি না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন বাবা। অর্থভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে শিশুটির। তাহাবিকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুতি জানিয়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন মৌসুমী খাতুন।

তাহাবির রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স. ম. বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাহাবি নামের শিশুটির মারাত্মক চর্ম রোগে আক্রান্ত। অপুষ্টি থেকে সাধারণত এমন রোগ হয়ে থাকে। সচারচর এমন রোগী দেখা যায় না। শিশুটিকে সুস্থ করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’

তাহাবির চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে তার মা মৌসুমী খাতুনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে- ০১৮৩৫৪৯০৭২৮ (বিকাশ)।

Comments

comments

x