আজ মঙ্গলবার | ২০ নভেম্বর২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ১৪২৫
মেনু

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা

মানচিত্র ক্রীড়া ডেস্ক | ২৬ অক্টো ২০১৮ | ১:৩৪ অপরাহ্ণ

ছবি-সংগৃহীত

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে বাকি ছিল জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার। এবার সফরকারী দলকে বাংলাওয়াশ করলো মাশরাফিবাহিনী। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ আর সফরকারী জিম্বাবুয়ে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ২৮৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।

জবাবে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২.১ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ২৮ এবং মোহাম্মদ মিথুন ৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে কাইল জারভিসের করা ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য হাতে ফেরেন লিটন দাস (০/১)। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন ইমরুল-সৌম্য। ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৯৪ রানে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৭তম অর্ধশতক তুলে নেন ইমরুল।

একই পথে হাঁটেন সৌম্যও। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সপ্তম অর্ধশতক তুলে নেন সৌম্য। এরপর দু’জন ব্যাটে ঝড় তোলেন। দু’জন মিলে গড়েন দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ও দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। ২৮তম ওভারের প্রথম বলে সৌম্য তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। মাত্র ৮৮ বল খরচায় ৯ চার ও চার ছক্কায় দ্রুততম সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এরপর সৌম্যের দুর্দান্ত ইনিংস থেমে যায় দলীয় ২২০ রানে। মাসাকাদজার করা ৩০তম ওভারের শেষ বলে তিরিপানোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১১৭ রানে ফেরেন সৌম্য (২২০/২)। ৯২ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কায় দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এরপর সেঞ্চুরিতে যোগ দেন ইমরুল কায়েস।

৯৯ বলে ৯টি চার ও ১ ছক্কায় দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দলীয় ২৭৪ রানে ব্যক্তিগত ১১৫ রানে থামেন ইমরুল। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে এলটন চিগুম্বুরার হাতে বাউন্ডারির কিনারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই সিরিজে সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শেন উইলিয়ামস। ১৪৩ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১২৯ ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ এই ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়াও ৭২ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৫ রান করে আউট হন ব্র্যান্ডন টেইলর। সিকান্দার রাজা ৪০ ও পিটার মুর করেন ২৮ রান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট তোলেন নাজমুল হাসান অপু। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার রনি ১টি করে উইকেট নেন। এ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। এই ম্যাচের একাদশে নেই মেহেদি হাসান মিরাজ, ফজলে মাহমুদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের জায়গায় দলে ঢুকেছেন আরিফুল হক, আবু হায়দার রনি এবং সৌম্য সরকার। আরিফুলের এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে অভিষেক হয়েছে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছিল লাল-সবুজরা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভেন্যু বদলালেও বদলায়নি টাইগাররা, সহজ জয় নিয়ে সিরিজে ২-০ তে লিড নেয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গত ২১ অক্টোবর তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮ রানে জয় পায়।

আর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দেয় টাইগাররা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি তাই টাইগারদের জন্য পরীক্ষা-নিরিক্ষার ম্যাচ। জিম্বাবুয়েকে আরেকবার হোয়াইটওয়াশের অপেক্ষায় মাশরাফি-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা।

Comments

comments

x