আজ মঙ্গলবার | ২০ নভেম্বর২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ১৪২৫
মেনু

অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

রাকিব আল হাসান | ২৬ অক্টো ২০১৮ | ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

প্রতীকি ছবি

শুভ মলিকে ভীষণ ভালোবাসে। মলি আধুনিকত্বে বিশ্বাসী, চলমান ভালোবাসার সব রীতি সমানভাবে মেনে চলে। মলির সব চাহিদা পূরণে শুভর সাধ থাকলেও সব সময় সাধ্যে কুলায় না। রোজ ডেতে মলির চাহিদা অনুযায়ী শ’খানেক গোলাপ দিতে গিয়ে টিউশনির অর্ধেক টাকা ফুরিয়ে ফেলল। প্রপোজ ডেতে মলির ইচ্ছা ছিল তার পছন্দের ড্রেস নিয়ে প্রপোজ করতে হবে। সে চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে পুরো মাসের সকালের নাশতার টাকাটা পুরোই গেল মলির ফ্লোরটাচ ড্রেসে।

মলি ক্যাডবেরি ভক্ত। চকোলেট ডেতে বারোশ’ টাকার চকোলেট কিনে দিতে গিয়ে পুরো মাসের সিগারেট আর চায়ের টাকাটাও ফুরিয়ে গেল। প্রমিজ ডেতে মলি শুভকে প্রমিজ করতে বলল, ‘যখন যা চাইব, ঠিক তখন তা দিতে বাধ্য থাকবে।’শুভ সায় দিলো, ‘জান, তোমার জন্য আমি সব করতে পারি!’ _ ঠিক আছে, বাবু।

কাল আমার বান্ধবীর বার্থডে। ওকে একটা সারপ্রাইজ দিতেই হবে। তুমি প্লিজ আমাকে হাজার পাঁচেক টাকা দাও না। শুভর মাথায় চিন্তার ভাঁজ। তবু সে মলিকে ভালোবাসে। জিদ করল মনে মনে। যে করেই হোক টাকাটা দিতেই হবে। বন্ধু সিয়ামের কাছ থেকে টাকাটা ম্যানেজ করে মলির হাতে তোলা মাত্রই শুভকে ধন্যবাদ দিলো মলি। কিন্তু একবারও লাভ ইউ বলল না! মন খারাপ করে শুভ বাসায় ফিরল।

পরদিন মলির বান্ধবীর বার্থডে। পরপর দু’দিন হাগ ডে, কিস ডে থাকলেও মলি শুভর সঙ্গে দেখা করতে পারেনি বান্ধবীদের সময় দেওয়ায়। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ল শুভ। একদিকে বিশাল টাকার অঙ্ক, অন্যদিকে মলির অপারগতা শুভর মন খারাপের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল। পরদিন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভ্যালেন্টাইন ডে। ক্যালেন্ডারের পাতায় শুভর হরেক রকম কর্মসূচি।

মলিকে চমক দেওয়ার জন্য বন্ধুদের পরামর্শও সেরে নিলো শুভ, তবু যে করেই হোক এবার ভ্যালেন্টাইন ডে সেলিব্রেশন করবেই করবে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই মলিকে কল দিলো শুভ। চিপাগলির মোড়ে শুভকে মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে বলল মলি। বাধ্যগত প্রেমিক শুভ ১০ মিনিটের জায়গায় ঘণ্টাখানেক ধরে পিলারের মতো দাঁড়িয়ে রইল। মলিকে ফোন করল কয়েকবার।

কিন্তু মলি ফোন ধরছে না। শুভ ঘামাচ্ছে আর কল দিচ্ছে। একের পর এক কল দিতে দিতে ক্লান্ত শুভ। মলি কিছুতেই ফোন ধরছে না। ৬৯তম কলে মলি ফোন রিসিভ করল। হাসিমুখে হ্যালো বলার পরপরই মলি বলল, ‘এই, আম্মু না আজকে বের হতে দিচ্ছে না। পরে কথা বলি, কেমন?’ মলি ফোন কেটে দিলো। শুভ মনে মনে বলল, ‘আসবি না তো কী হইছে। আগেই একটু বলতি, আমি তাহলে লিজার সঙ্গেই দিনটা পার করতাম। বেচারি ওয়েটিং লিস্টে ঝুলে আছে কতদিন ধরে!’

Comments

comments

x