আজ মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর২০১৮ | ৮ কার্তিক১৪২৫
মেনু

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে মা-বাবার আকুতি

পাবনা প্রতিনিধি | ২৮ জুলা ২০১৮ | ৩:৪২ অপরাহ্ণ

দিনমজুর বাবার মেধাবী সন্তান আবদুল মান্নান মিজান।  বাবা ছানাউল্লাহ প্রামানিকের স্বপ্ন ছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। হটাৎই চিকিৎসকের একটি কথায় স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে গরীব পরিবারটির। ক্যান্সার নামক দুরারোগ্য রোগ বাসা বেধেছে মিজানের গলায়। ছেলের এমন রোগের কথা শুনে চোখের নিচে কালো বলিরেখা পড়ে গেছে মা নাসিমা খাতুনের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আগশৈয়াইল গ্রামে তাদের বাড়ি। মিজান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র। ২০১৯ সালে তার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা রয়েছে। রোগের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে মিজানের পড়াশোনা। তবে ক্যান্সারকে জয় করে আবারও পড়াশোনায় ফিরে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় মিজান।

ছানাউল্লাহ প্রামানিক জানান, প্রায় বছর খানেক আগে হটাৎ মিজানের গলায় নিচে ফুলে যায়। স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে দেখিয়ে রোগ না সারায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান ক্যান্সারে আক্রান্ত মিজান। পরে তাকে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিষ্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর কবির রাশেদের তত্ত্ববধানে চিকিৎসা শুরু হয় মিজানের।

চিকিৎসক ৬টি কেমোথেরাপি দেয়ার কথা বলেন। কেমোথেরাপি দিলে সারতে পারে মিজানের রোগ চিকিৎসকের এমন কথা শুনে আশার আলো দেখতে শুরু করেন গরীব পরিবারটি। ধার দেনা করে মিজানকে দুটি কেমোথেরাপি দেন তার দিনমজুর বাবা। আরও চারটি কেমোথেরাপি ও যাতায়াত বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকার প্রয়োজন। অথচ চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ নেই দিনমজুর বাবার কাছে। দিশেহারা বাবা-মা হন্যে হয়ে ঘুরছে টাকার জন্য। কোথাও মিলছে না সহযোগিতা।

মা নাসিমা খাতুন অশ্রসিক্ত নয়নে বলেন, ‘ছেলেকে (মিজান) নিয়ে অনেক আশা ছিল। এখন তাকে নিয়েই দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। আল্লাহ কেন আমাদের মতো গরীব মানুষের ঘরে এমন রোগ দেয়! অভাব থাকলেও আমাদের ঘরে সুখ ছিল কিন্তু ছেলের রোগে আমাদের সংসারে সুখ হারিয়ে গেছে।’ মিজানকে সুস্থ করতে বাবা ছানাউল্লাহ ও মা নাসিমা খাতুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

Comments

comments

x