আজ শুক্রবার | ১৭ আগস্ট২০১৮ | ২ ভাদ্র১৪২৫
মেনু

বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া টাকা দান করলেন এমবাপ্পে

মানচিত্র ক্রীড়া ডেস্ক | ১৭ জুলা ২০১৮ | ৩:০৮ অপরাহ্ণ

কিলিয়ান এমবাপ্পে

অবাক করেই চলেছেন কিলিয়ান এমবাপে!‌ বিশ্বকাপে তাঁর গতি, তাঁর গোল, দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ফাইনালে গোল করে ফুটবল সম্রাট পেলেকে ছুঁয়ে ফেলা—এতেই চমকে গিয়েছিল বিশ্ব। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে  বুঝিয়ে দিলেন উনিশের বিস্ময় তিনি। বিশ্বকাপে আয়ের পুরো টাকাটাই ‘‌প্রিমিয়ার দি কোর্দি অ্যাসোসিয়েশন’‌–কে দান করলেন। যারা মূলত হাসপাতালে ভর্তি ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলোর ব্যবস্থা করে থাকে।

টাকার অঙ্ক?‌ ৩ লাখ ৮৪ হাজার পাউন্ড (‌‌ভারতীয় মুদ্রায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা)‌‌!‌ শুধু টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ, এমনটা মনে করেন না এমবাপ্পে। ‘‌প্রিমিয়ার দি কোর্দি অ্যাসোসিয়েশন’‌–এর পক্ষ থেকে সেবাস্তিয়ান রুফিন জানিয়েছেন, ‘‌কিলিয়ানের মতো মানুষ হয় না। সময় পেলে আমাদের কাছে চলে আসে। ওই ছোট ছোট ছেলেমেয়ের সঙ্গে সময় কাটায়। ছোটদের সঙ্গে ওর সম্পর্ক দারুণ। ছোটরা যাতে অনুপ্রাণিত হয় তেমনই গল্প বলে। পরামর্শ দেয়।’‌

এখানেই শেষ নয়। এমবাপ্পে নিজে তো টাকা দিয়েছেনই, সতীর্থদেরও উৎসাহী করেছেন। ‘‌লেকিপে’‌–র খবর, অন্য প্লেয়াররাও তাঁদের আয়ের কিছু অংশ দান করছেন। বন্ডির ‘‌জি–রেনর কলেজ’‌–এর ২৫ জন ছাত্র–ছাত্রীর রাশিয়ায় শিক্ষামূলক ভ্রমণের জন্য।

এমবাপ্পে যখন এমন উদারতা দেখিয়েছেন, তখন বিশ্ব জয়ের দু’‌দিন বাদে বেরিয়ে এল খবর, রবিবার রাতে সতীর্থদের ঠিক কী বলেছিলেন পল পোগবা। নিজেই জানিয়েছেন, ‘‌স্বপ্ন ছুঁতে আমাদের ৯০ মিনিট দরকার। ইতিহাসে নাম লেখাতেও ওই ৯০ মিনিটই বাকি। আর ফ্রান্সের হয়ে ধুম ধুন্দুমার কাণ্ড করতেও ওই ৯০ মিনিটই বাকি। জেনে রাখো, এখনকার ছোটরা তো বটেই, পরের প্রজন্ম, তার পরের প্রজন্ম মনে রাখবে আমাদের। তাই, চলো ঝাঁপাই। হ্যাঁ, এটা ঘটনা একটা কাপের জন্য দুটো দল লড়বে। আমরা কিছুতেই অন্যকে এই কাপটা ছিনিয়ে নিতে দেব না।’‌

দলের কেউ যখন এভাবে তাতায়, তখন সতীর্থদের মনোবল তিন গুণ বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

এদিকে উৎসবের এই আবহেও, অলিভার জিরৌদের সমালোচনা করা হচ্ছে। একটাও গোল করতে না পারায়। কিন্তু ফ্রান্সের স্ট্রাইকার বলছেন, সমালোচনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কথায়, ‘‌গোটা কেরিয়ারে অনেক সমস্যার মুখে পড়েছি। কাটিয়ে ওঠার চেষ্টাও করেছি। তবে এই সমস্যা, সমালোচনা আমাকে নতুন করে তাতায়। ফুটবল অত্যন্ত কঠিন খেলা। লোকে শুধু ভাল দিকটা দেখে। দেখতে চায়। অনেক পরিশ্রম করে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি। তাই নিজেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করছি।’‌

ফ্রান্সের আরেক ডিফেন্ডার আদিল রামি জানিয়েছেন, তাঁর গোঁফই দলের লাকি চার্ম!‌ সে কেমন করে?‌ রামি মজা করে বলেছেন, ‘‌ফাইনালের আগে গ্রিজম্যান আমার গোঁফটা ছুঁয়েছিল। ম্যানেজারও তাই করেছিলেন। লাক যাতে আমাদের সঙ্গে থাকে। আমার গোঁফ এখন গোটা ফ্রান্সে জনপ্রিয়। তাই ঠিক করেছি, ওটা কাটব না। রেখেই দেব।’‌ উল্লেখ্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকেই তাঁর গোঁফ ছুঁয়ে মাঠা নামাটা প্রথম শুরু করেন গ্রিজম্যান। গ্রিজুকে দেখে দলের বাকিরাও তাই করতে শুরু করেন। নিছকই সংস্কার। কিন্তু সেই সংস্কারের অঙ্গ হয়ে দারুণ খুশি রামি।

খুশি তো হওয়ারই কথা। গোটা দেশ যে এখন তাঁদের জন্যই এত আনন্দ করছে। মনের সব ভয় দূরে সরিয়ে দিতে পেরেছে। সোমবার এমবাপেরা যখন দেশে ফেরেন, তখন ফ্রান্সের সমর্থকরা ছিলেন পাগলপারা। সবাই নাচছেন, লাফাচ্ছেন। ‘‌উই আর চ্যাম্পিয়ন’‌–এর সুর আকাশে–বাতাসে। সঁজে লিজে–তে তাঁদের দেখতে উপচে পড়েছিল ভিড়। আগের রাত থেকেই সেখানে ছিল ৩ লাখের ওপর জমায়েত!‌ সেই ভিড়ে হাজির মার্সেইয়ের এক মহিলা জানিয়েছেন, ‘‌অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে আছি। দারুণ কাটছে রাত, দিন। মনে হচ্ছে, এগুলো না ফুরোলেই ভাল হয়।’‌

সময় এগিয়ে যাবে। উৎসবের রেশও হয়তো সময়ের সঙ্গে ফিকে হবে। কিন্তু মনের এই আবেগ?‌ গ্রিজম্যান, এমবাপেদের নিয়ে গর্ব?‌ থেকে যাবে। আজীবন।

Comments

comments

x