আজ রবিবার | ২২ জুলাই২০১৮ | ৭ শ্রাবণ১৪২৫
মেনু

‘আমার রোগ কি ভাল হবি লয়?’

পাবনা প্রতিনিধি | ২৮ জুন ২০১৮ | ১:৫২ অপরাহ্ণ

শামীম

‘ইস্কুলে গেলি পারে আমার পাশে কেউ বসপের চায় না; কেউ খেলতি চায় না। আমি কি দোষ করিছি? আমার জন্যি আব্বা-আম্মার খুব কষ্ট হয়; আমার রোগ কি ভাল হবি লয়?’ -এভাবেই কথাগুলো বলছিল পাবনার চাটমোহর উপজেলার সোহাগবাড়ি গ্রামের দিনমজুর আফছার আলী ও গৃহিনী ছাবেদান নেছার দশ বছর বয়সী ছেলে শামীম হোসেন।

‘মেলানোমা’ রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুটি শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে দীর্ঘদিন। কপাল ও চোখ জুড়ে তিলকের ওপর হয়েছে ক্ষত। তিলকের ভারে বন্ধ হওয়ার পথে তার ডান চোখ। অবিরত ঝড়ছে পুঁজ রক্ত। ক্লাসে সহপাঠীরা পাশে বসতে চায় না বলে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়া। পাড়ার সমবয়সীরা তাকে কেউ খেলতেও নেয় না! পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় এখন চিকিৎসাও বন্ধ। তবে শামীমকে সুস্থ করতে দ্বারে দ্বারে ছুটছেন মা সাবেদান নেছা।

বুধবার দুপুরে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে ছেলেকে সঙ্গে করে সহযোগিতা চাইতে এসেছিলেন তার মা সাবেদান নেছা। এ সময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। তিনি জানান, তিন ছেলের মধ্যে শামীম মেজ। এক টুকরো টিনের ছাপড়া ঘর ছাড়া কিছুই নেই তাদের। বাবা আফছার আলী দিনমজুরি করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে চলেনা সংসার। কাজ না পেলে অনাহারে দিন কাটে পরিবারটির।

এরআগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার দেনা করে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শ্যামলী হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসকরা অস্ত্রপাচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা। দিনমজুর বাবার সামর্থ্য না থাকায় শামীমকে নিয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। এদিকে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় শামীমের তিলক থেকে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ঝড়ছে পুঁজ রক্ত।

সাবেদান নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে (শামীম) সবসময় স্কুলে ভাল রেজাল্ট করেছে। সহপাঠীরা তাকে দেখে ঘৃণা করায় সে এখন স্কুলে যেতে চায় না। পড়াশোনাও বন্ধ। অসহ্য যন্ত্রণায় সারারাত ঘুমাতে পারেনা। ছেলের অসুখ আমাদের আজ নিঃস্ব করে ফেলেছে!’

শামীমকে সুস্থ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তার মা ছাবেদান নেছা।

সোহাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র শামীম। তার রোল নং-২। চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য পরিবারটির নেই। তবে ছেলেটির জন্য খুব কষ্ট হয়।

রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার স.ম বায়েজিদুল ইসলাম জানান, সম্ভবত শিশুটি ‘মেলানোমা’ রোগে আক্রান্ত। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে।

শামীমের পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ছাবেদান নেছা-০১৭৬১-১৩৪৬০৩।

Comments

comments

x