আজ মঙ্গলবার | ২২ মে২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ১৪২৫
মেনু

ইসলামিক সেন্টার প্রকল্পে সব দ্বিধা দন্দের অবসান ।। মুসলিমরা নিয়ে গেলেন হালাল খাবার, খ্রিস্টানরা তৈরী করলেন বিশাল তাবুর নিচে বসার স্থান।।

মানচিত্র নিউজ | ২৩ এপ্রি ২০১৮ | ৩:২২ অপরাহ্ণ

এ,এইচ রাসেল : প্রবাসী মুসলিম ও স্থানীয় খ্রিস্টানদের নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে দুপুরের খাবার খেলেন আটলান্টার ডোরাভিলের আত তাকওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইসলাম। দীর্ঘ দিনের মতানৈক্য,মতোবিরোধ কে পরাস্থ করে জয় হলো মানব জাতির দুটি সম্প্রদায়ের শান্তি ,সম্প্রীতি,শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। এই বিরল ঘটনাটি ঘটে গত ২১শে এপ্রিল শনিবার জর্জিয়ার নিউটন কাউন্টির ইসলামিক সেন্টার প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী ও তাকওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইসলামের নেতৃত্বে। প্রবাসী মুসলিমগণ ও স্থানীয় চার্চের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা ও এলাকার বাসিন্দাদের স্বতঃফুর্ত অংশগ্রহণে ইসলামিক সেন্টার প্রকল্প এলাকা মুখরিত ছিল সকাল থেকে বিকেল প্রযন্ত ।

প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিমরা নিয়ে গেলেন হরেক রকমের হালাল খাবার আর খ্রিস্টানরা তৈরী করলেন বিশাল তাবু আর তার নিচে টেবিল চেয়ার সাজিয়ে দুটি ধর্মের প্রায় দুই শত মানুষ এক সাথে লাঞ্চ করে এক এলাকায় সহাবস্থানের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । ডোরাভিলের আত তাকওয়া মসজিদ কর্তৃপক্ষ্যের উদ্যোগে জর্জিয়া রাজ্যের ডোরাভিল সিটি থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে নিউটন কাউন্টিতে ১৩৫ একর জমি ক্রয় করা হয় ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের জন্য। যেখানে থাকবে মুসলিমদের বাসস্থান ,মসজিদ ,মাদ্রাসা , ফিউনারেল হোম ও মুসলিম গোরস্থান। এই বিশাল জমিটি ক্রয়ের পর থেকেই নিকটস্থ চার্চ ও পার্শবর্তী এলাকাবাসীরা এই প্রকল্পকে মেনে নিতে চায়নি। এ নিয়ে টিভি মিডিয়াও সোচ্ছার ছিলেন দুই পক্ষের আপত্তি ও অনাপত্তির সংবাদ সংগ্রহে। তাকওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইসলাম কয়েকবার তাদের সম্মুখীন হয়েছেন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে। তবে তার স্বভাব সুলভ কথা দিয়ে ন্যায্য দাবি আদায়ে সকলের মন জয় করতে পেরেছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম ,ইসলামে কোনো উগ্রতা নেই আবার এলাকার খিষ্টানরাও বুজতে সক্ষম হয়েছে একটি ধর্মের জনগোষ্ঠীকে কোনো অজুহাতে বাধা দেয়া ঠিক নয়।

যেভাবে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল :

নিউটন কাউন্টির ওই এলাকার সব চার্চ মিলে প্রতি বছর তাদের এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। এই কার্যক্রমে চার্চের পক্ষ থেকে এবারে আমন্ত্রন জানানো হয় ইসলামিক সেন্টারের প্রধান ও তাকওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইসলামকে। তারা বলেছিলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ শেষে একটি চার্চে সকলে মিলিত হয়ে লাঞ্চ করবেন। মোহাম্মদ ইসলাম পাল্টা প্রস্তাব দেন আপনারা আমাদের ইসলামিক সেন্টার প্রকল্পে আসুন আমি খাবারের আয়োজন করবো। তারা যথারীতি প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান এবং পরিকল্পনা মতো দুই পক্ষই এগিয়ে আসেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শেষে সকলে মিলে মিশে আলাপ আলোচনা ও একত্রে দুপুরের খাবার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। সকলের অংশগ্রহণের জন্য ইসলামিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছিল । খোলা আকাশের নিচে মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অসংখ নারী পুরুষ সমবেত হন । চার্চের প্যাস্টর এডউইন ,এমোরির প্রফেসর যথাক্রমে মিঃ মরিচ ,ফোলেন ,ডেভিড ও লিন তাদের ছাত্রদের নিয়ে কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আটলান্টার মিডটাউনে অবস্থিত মসজিদ আলফারুকের ইমাম ডঃ সিদ্দিকী ,মসজিদ ওসমানের চেয়ারম্যান খালেদ বশির ,মসজিদ আবুবকরের ইমাম মোহাম্মদ সিয়াম ,মসজিদ ওমর বিন আব্দুল আজিজের চেয়ারম্যান মিঃ দানাবি , মসজিদ মুমিনের চেয়ারম্যান মোঃ আলতাফ, মুফতি আছেফ সহ ধর্মপ্রাণ অনেক মুসুল্লিগন উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামিক সেন্টার প্রকল্প স্থানে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট সংগঠক ডাঃ মোহাম্মদ আলী মানিক , জসিম উদ্দিন ,শাকুর মিনটু ,নাহিদুল খান সাহেল ,আবু তালুকদার , গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া ,সাংবাদিক রুমি কবির ,এ এইচ রাসেল ,মামুন শরীফ , মো ইসলাম ঠানডু, দিল বাহার, টুটুল ,নজরুল ইসলাম সহ কমিউনিটির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ইসলামিক সেন্টার নিয়ে এর আগে অনেক আলাপ আলোচনা হলেও সেদিন পার্শ্ববর্তী সাবডিভিশনের অনেকেই প্রকল্প সম্পর্কে ইমাম মোহাম্মদ ইসলামের কাছে জানতে চান। তার দেয়া প্রকল্প ও প্লানের উপস্থাপনে সকলে খুশি হন আর তিনিও তাদের এক নেতার হাতে উপহার স্বরূপ এখানে পবিত্র কোরআন শরীফ তুলে দেন।

উল্লেখ্য মৃত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের পূর্বে ইসলাম ও সুন্নাহ মোতাবেক যাবতীয় কার্যক্রম মেনে এই ইসলামিক সেন্টারের গোরস্থানে দাফন করা হয়। যেমন এর আগে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ফিউনারেল হোমে মুসলিম মরদেহ অবহেলায় অযত্নে ফেলে রাখা হয় ইসলামিক নিয়ম শতভাগ মানা হয়না। গতবছর সেপ্টেম্বরে কর্মস্থলে আততায়ীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশী মুসলিম রেজোয়ান ও গত ডিসেম্বরে একজন ইথিওপিওয়ান মুসলিম এর লাশ এই ইসলামিক সেন্টার গোরস্থানে দাফন করা হয়।

Comments

comments

x