আজ মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর২০১৮ | ৮ কার্তিক১৪২৫
মেনু

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের বোমা হামলা

মানচিত্র ডেস্ক | ১৪ এপ্রি ২০১৮ | ২:১১ অপরাহ্ণ

ছবি- সংগৃহীত

সিরিয়ার সরকারনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই হামলার ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সিরিয়ার দুমা শহরে বাশার আল–আসাদের বাহিনীর রাসায়নিক হামলার জবাবে এ বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

যদিও দেশটিতে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরিয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এছাড়া রাসায়নিক আক্রমণের অভিযোগ পশ্চিমাদের ‘প্ররোচনামূলক’ আচরণ বলে দাবি করেছে রাশিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, যখন সন্ত্রাসীরা ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন হস্তক্ষেপ করল এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাল।

পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বোমা বিস্ফোরণ হওয়া তিনটি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেন। সেগুলো হলো- ১/ রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে বলে অভিযুক্ত দামেস্কের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র, ২/ হোমসের পশ্চিমে একটি রাসায়নিক অস্ত্র গুদাম, ৩/ রাসায়নিক অস্ত্রের যন্ত্রপাতির আরেকটি গুদাম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট, এটাও হোমসের কাছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। সিরিয়া যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবৈধ রাসায়নিক হামলা বন্ধ না করবে, আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত আছি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রিটিশদের এই সামরিক হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এই সামরিক হামলার কোনও বিকল্প নেই। তবে তিনি এই হামলাটি সরকার পরিবর্তনের জন্য নয় বলেও নিশ্চিত করেন। সিরিয়ায় হামলায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। এর আগে তিনি জানিয়েছেন, সিরিয়ার সরকার দুমায় রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে, তার কাছে এটার প্রমাণ আছে।

তবে সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বলেন, এ হামলাটি কোনও মানুষের কাজ হতে পারে না। এ হামলাকে তিনি দানবদের হামলা বলেও অভিহিত করেন। হামলার ঘটনায় সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাওয়া যাবে। আগে থেকে ঠিক করা রাখা দৃশ্য কেবল মঞ্চায়ন করল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সতর্ক করে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের ঘটনা এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে না। এর জন্য সব দায় থাকবে ওয়াশিংটন, লন্ডন আর প্যারিসের।

Comments

comments

x