আজ রবিবার | ২২ জুলাই২০১৮ | ৭ শ্রাবণ১৪২৫
মেনু

সু্ক্রিয়া

ইমন চক্রবর্তী, ভারত | ০৭ এপ্রি ২০১৮ | ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

প্রতীকি ছবি

সবে মাত্র মালদা স্টেশনের প্লাটফর্ম ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশে বেড়িয়েছে নর্থ-ইস্ট এক্সপ্রেস। এস-৩ কামরায় গাদাগাদি করে মানুষ। রিজার্ভেশন কামরা হলেও ভারতীয় রেলের আসল ছবিটা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। নীচেই চাদর বিছিয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন ক্লান্ত দেহগুলো।

বৃদ্ধ মুকুল বাবু তার রিজার্ভেশন করা আপার বার্থে শুয়ে সবই দেখছিলেন। টয়লেটে না গেলেই নয়। কোনও মতে ভিড় ডিঙিয়ে টয়লেটের দিকে এগোতে লাগলেন। এক উর্দিধারি সেনা জওয়ান টয়লেটের দরজায় কম্বল বিছিয়ে ঘুমন্ত। কাজ সেরে টয়লেট থেকে বেরিয়ে সেদিকে চোখ যেতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো মুকুল বাবুর।

ওই জওয়ানকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিলেন। বললেন, ‘চলো বেটা মেরে বার্থমে। রাতভর দরোয়াজেকে সামনে অ্যায়সে পড়ে রহেনেসে তবিয়ত বিগড় যায়েঙ্গে।’ জবাব এল, “নেহি সাহাব, আপকে কাফি উমর হ্যায়, আপকা বার্থ ম্যায় কিউ?…. নাগাল্যান্ড মে ডিউটি পে থা। খবর মিলা বেটি কি তবিয়ত অউর খারাব হো গয়ি। বহোত দিনোসে দিল কি বিমারি হ্যায় উসকি। খবর মিলতেহি তুরন্ত ঘর যা রাহা হু। রিজার্ভেশন কর হি নেহি সকা। আর্মি কোচ মে ভি জগাহ নেহি মিলা। বহোত ভিড় হ্যায় আজ।”

মুকুল বাবু একরকম জোর করেই তুলে দিলেন অপরিচিত সেই জওয়ানকে। বললেন, ‘চলো দোনো বাট লেতে হ্যায় বার্থ। ‘ বাক্স-প্যাটরা নিয়ে জওয়ান ভেতরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করতেই আশপাশ থেকে মন্তব্য উড়ে আসতে লাগল, “বুডঢা কা দিমাগ খারাব হ্যায়।খুদ মুসিবত কো আপনা রহে হ্যায়। হমে ভি…।”

তবুও শেষ মেশ মুকুল বাবু আর সেনা জওয়ান তাদের বার্থে পৌঁছোলেন। বাকি যাত্রা পথে গল্প গুজব করে বেশ কাটলো সময় তাদের। নিউ দিল্লি স্টেশনে নেমে সেনা জওয়ান বৃদ্ধকে বললেন, ‘পর আপ জায়েঙ্গে কাহা? দিল্লিমে কোই রিস্তেদার হ্যায়? ”

ভারি গলায় উত্তর এলো,” হা বহোত রিস্তেদার সে মিলেঙ্গে কাল। বো সব মেরে আপনে হ্যায়। বিলকুল আপ কে তরহা। কাল ২৬ জানবারি হ্যায়। রাষ্ট্রপতি জি সব কে হাথো মে কুছ না কুছ দেঙ্গে। মুঝে ভি ইসিলিয়ে বুলায়া গায়া। মেরা বেটাকা পরম বীর চক্র মেরে হাত মে…..।”

কথার ফাঁকে ‘সুক্রিয়া’ বলবার সুযোগই পেলেন না জওয়ান। বৃদ্ধ ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন।

Comments

comments

x