আজ মঙ্গলবার | ১৯ জুন২০১৮ | ৫ আষাঢ়১৪২৫
মেনু

লঞ্চ তো নয়, যেন পাঁচ তারকা হোটেল!

মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ মার্চ ২০১৮ | ১২:১৩ অপরাহ্ণ

প্রতীকি ছবি

অনেকেই নাম দিয়েছেন ‘বরিশালের টাইটানিক’। বাইরে লঞ্চ, ভেতরে পাঁচতারকা হোটেল এর সুবিধা। ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের সর্বাধুনিক বিলাসবহুল কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৯০ ঘণ্টারও বেশি সময় নদীতে চালিয়ে দেখার পর গত ২১ মার্চ বুধবার চালু করা হয়েছে। বুধবার রাতে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটি বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসময় অধিকাংশ কেবিন বুকিং ছিল। এমভি কীর্তনখোলা-১০ নামের এই সর্বাধুনিক, সর্ববৃহৎ ও উচ্চ গতিসম্পন্ন লঞ্চটি দেখে এখনও বিশ্বাস হচ্ছেনা যাত্রীদের।

উদ্বোধনের সময় নদী বন্দরে নোঙ্গর করা কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত মিলাদ-মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, উপ পুলিশ কমিশনার আবদুর রউফ, সালমা শিপিং কর্পোরেশনের সত্তাধিকারী মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস প্রমুখ।

সালমা শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আহসান ফেরদাউস বলেন, অভিজাত শ্রেণির যাত্রীদের জন্য লঞ্চটিতে রয়েছে ১৭টি ভিআইপি কেবিন। কেবিনগুলো বানানো হয়েছে বিলাসবহুল আবাসিক তিন তারকা হোটেলের আদলে। ব্যয়বহুল ও দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্রে সাজানো প্রতিটি কক্ষ। প্রতিটি কেবিনের সঙ্গে রয়েছে সুবিশাল বারান্দা। এখানে বসে নদী, পানি, আকাশ আর আশপাশের মনোরম প্রকৃতি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। কক্ষের ভেতরে রয়েছে এলইডি টিভি। রিভার সাইটের কেবিনের ভেতর থেকেও সহজেই দেখা যায় বাইরের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি। লঞ্চের করিডরগুলোতে রয়েছে নান্দনিক ডিজাইন। লঞ্চটির ভিতরের নকশা ও কারুকার্য যে কারো মন কাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ভিআইপি ও কেবিন যাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা সুসজ্জিত খাবার হোটেল। দুই হাজার যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন লঞ্চটিতে রয়েছে ৭০টি ডাবল ও ১০২টি সিঙ্গেল কেবিন। চারতলা লঞ্চটির ডেকের যাত্রীদের জন্য যাত্রা আরামদায়ক করতে নিচতলা ও দোতলায় রয়েছে মসৃণ কার্পেট।
আলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাইল লাইট। বিনোদনের জন্য তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য থাকছে বড় পর্দার টিভি এবং অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। খাবার জন্য কেন্টিন ও পর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে লঞ্চটিতে।

মঞ্জুরুল আহসান ফেরদাউস বলেন, ডেকের যাত্রীদের জন্য রয়েছে মোবাইল চার্জের ১২৪টি পয়েন্ট। যেখানে ২৪৮টি মোবাইলে একসঙ্গে চার্জ দেয়া সম্ভব হবে। সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহী এই জাহাজে রোগীদের জন্য থাকছে আইসিইউ, সিসিইউসহ মেডিকেল সুবিধা। যাত্রীদের নামাজের জন্য রয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত নামাজের স্থান। যেখানে একসঙ্গে ৩০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন।

তবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার সদরঘাটে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লঞ্চটির উদ্বোধন হবে বলেও জানান তিনি।

Comments

comments

x