আজ শনিবার | ২১ জুলাই২০১৮ | ৬ শ্রাবণ১৪২৫
মেনু

চলে গেলেন শাহীন ব্যাপারীও

মানচিত্র ডেস্ক | ২৭ মার্চ ২০১৮ | ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

ছবি- শাহীন ব্যাপারী

জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন নেপালের কাঠমুন্ডুতে ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের বেঁচে যাওয়া শাহীন ব্যাপারী। দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বেশ কয়েকদিন। স্বজনদের কাছে ফেরার জন্য আকুতি ছিল বেশ। কিন্তু অবশেষে সোমবার সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

সারা গায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েও কাঠমাণ্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বেডে শুয়ে বারবারই বলছিলেন, ‘আমাকে দেশে নিয়ে যান, ঢাকায় চিকিৎসা করালেই আমি ভাল হয়ে যাব।’

চিকিৎসকরাও তেমনই আশাবাদী ছিলেন তাকে নিয়ে। দেশে আসার পরও এখানকার চিকিৎসায় তিনি ভালও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু ১৫ দিনের মাথায় হঠাৎ করেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবনতি ঘটে গেল তার অবস্থার। লাইফ সাপোর্টে নিয়েও কাজ হলো না। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন শাহিন ব্যাপারী।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন শাহিন ব্যাপারী। এ নিয়ে ওই বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে (৬৭ যাত্রী, দুই পাইলট ও দুই ক্রুসহ) মোট ৫০ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক। জীবিত আরও বাংলাদেশি ৯ যাত্রী এখনো চিকিৎসাধীন ঢাকা, দিল্লি ও সিঙ্গাপুরে।

সর্বশেষ রোববার মধ্য রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কবির হোসেনকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহিন ব্যাপারীর মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘শাহিনকে ১৮ মার্চ দেশে ফিরিয়ে আনার পর থেকে তার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হলেও তাকে নিয়ে তেমন আশঙ্কা ছিল না। যতটুকু ছিল সেটার সর্বোচ্চ চিকিৎসা চলছিল আইসিইউতে রেখে। কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল সোমবার ভোর থেকে শাহিনের অবস্থার অবনতি ঘটে। তার শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে দিই। কিন্তু আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।’

Comments

comments

x