আজ রবিবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন১৪২৪
মেনু

৪০ বছর পর নিজভূমে আমেরিকা প্রবাসী বাশার খান

মানচিত্র ডেস্ক | ৩১ জানু ২০১৮ | ১:৩২ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ পঞ্চাশোর্ধ বাংলাদেশি আবুল বাশার খান। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন।

আমরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হিসেবে আবুল বাশার খানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

তিনি বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে কয়েকদফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ভোটে জিতে আসছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের  খান বাড়ির এই কৃতি সন্তান।

তার বাবা প্রয়াত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব ছিলেন।

বর্তমানে আবুল বাশার খান সেখানে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে একজন বাংলাদেশি হিসেবে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

তিনি জীবনের টানা ৪০ বছর প্রবাস জীবনে রয়েছেন। গত রোববার তার তিন প্রবাসী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিজের জন্মস্থান ভান্ডারিয়ায় এসেছেন।

এখবর ছড়িয়ে পড়লে আবুল বাশার খানকে দেখতে স্থানীয়রা ভীর করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তিনি তার প্রবাসী বন্ধু কুষ্টিয়ার শফিক খান, নোয়াখালীর সেলিম খান ও চট্টগ্রামের আবু কামাল আজাদকে নিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন।

এসময় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রাধানগর গ্রামের শিক্ষাপল্লী ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ৪০ বছর প্রবাস জীবনের পর নিজের জন্মস্থানে ঘুরতে গিয়ে তিনি সুখানুভুতি জানিয়েছেন।

গর্বিত বাংলাদেশি আবুল বাশার খান বুধবার সাংবাদিকদের জানান,  ১৯৬০ সালের ১ মার্চ  জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তারা দুই ভাই দুই বোন। পরিবারের ছোট বোন রোজী খান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, এছাড়া সবাই আমেরিকা প্রবাসী।

ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। আবুল বাশার খান ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি আমেরিকায় যান । এর আগে ঢাকার মুসলিম গভঃ হাইস্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৭৮ সালে নটরডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে তিন বছর পড়ার পর স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা গিয়ে আর ফেরেননি।

আমেরিকায় বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে নিজ জেলা পিরোজপুরের মরজিয়া হুদা খানকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে ছেলে আতিক খান ও মেয়ে নূসরাত জাহানও আমেরিকা প্রবাসী।

আবুল বাশার খান আরো জানান,  আমেরিকা যাবার পর নিউইয়র্ক শহরে প্রথমে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। পরে ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির  সি ব্রুক শহরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিনে নেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল।

২০০৬ সালে তিনি সি ব্রুকে প্লানিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হন । চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে সেইটাই তার প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করা। এরপর ২০০৬ সালে ওই শহরের বাজেট কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে সি ব্রুক বোর্ড অব সিলেক্টম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তৃতীয় দফায় নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

২০১১ সালে সি ব্রুকে তিন বছর মেয়াদে ওই পদে পূনরায় তিনি নির্বাচিত হয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টসহ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।

২০১২ সালের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউহ্যাম্পশায়ারে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ পদে তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ওই শহরের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও এনার্জি বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।

তিনি জানান, ২০১৪ সালেও তিনি ওই পদে বিপুলভোটে জয়লাভ করে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ৫ জন আমেরিকান প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুলভোটে নিউহ্যাম্পশায়ারে স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হন।

বর্তমানে তিনি ওই পদে থেকে সেখানে নগর উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

আবুল বাশার খান ৪০ বছর পর নিজ জন্মভূমিতে এসে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, বিদেশে পড়ে থাকলেও মনটা সব সময় পড়ে থাকে দেশের মাটিতে।

নিজের দেশের প্রতি টান সবসময় আমি অনুভব করি। অনেক বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে খুব ভাল লাগছে।

সূত্র-পরিবর্তন.কম

Comments

comments

এই বিভাগের আরও খবর
x