আজ সোমবার | ২১ মে২০১৮ | ৭ জ্যৈষ্ঠ১৪২৫
মেনু

‘ভূমিরেখা’ দিয়ে বছর শুরু দীপু মাহমুদের

বিশেষ প্রতিনিধি | ১৯ জানু ২০১৮ | ২:১০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের এই সময়ের সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ বছরের শুরুতেই তার নতুন বই ‘ভূমিরেখা’ প্রকাশ করছে। আর এই বইটি প্রকাশ করছে পার্ল পাবলিকেসন্স। মুলত বইটি তিনি লিখেছেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে। তবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে লেখা হলেও সীমান্তবিভক্ত এই পৃথিবীতে ভূমিরেখা হয়ে উঠেছে সব স্থানের সময়ের সাক্ষী সময় নিরপেক্ষ এক উপন্যাস।

বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা আছে:

‘থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে নুরতাজ। তার সামনে বাড়ি পুড়ছে। আপন সংসার। বর্মি মিলিটারি গ্রাম ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। নুরতাজের পেটে সন্তান নড়ে উঠেছে। সে বাঁচতে চায়। পৃথিবীর আলো দেখবে বলে আকুল হয়ে হাত-পা ছুড়ছে। নুরতাজ পেটে হাত দিয়ে বলল, ভয় পাস না। শক্ত হয়ে থাক। আমি তোকে বাঁচাব। আমি তোর মা।

নুরতাজ বাড়ির পথ ছেড়ে ডানদিকে ছুটতে লাগল। পাহাড় ডিঙিয়ে ওদিকে যেতে পারলে নাফ নদী। তার ওপাশে বাংলাদেশের শাহপরীর দ্বীপ। নুরতাজ পেট চেপে ধরে ছুটছে। নাফ নদী পেরুলে বাংলাদেশ। স্বাধীন এক দেশের ঠিকানা।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নাফ নদীতে একসঙ্গে কয়েকটি নৌকা ভেসেছে। গর্ভে অনাগত সন্তান নিয়ে দেশছাড়া অন্যদের সঙ্গে নুরতাজ ভেসে চলল কোনো এক অজানা গন্তব্যে।

এখান থেকে ভূমিরেখা উপন্যাসের মূল কাহিনি শুরু। কিংবা বলা যায় এখান থেকে ভূমিরেখা উপন্যাস মোড় নিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রায়।

তীব্র সংকটেও ভালোবাসা টিকে থাকে, টিকে থাকে বন্ধন, টিকে থাকে আশা। সন্তান আঁকড়ে ধরা মায়ের ভালোবাসা, মায়ের জন্য সন্তানের ভালোবাসা, দেশ আর জন্মভূমির জন্য মানুষের ভালোবাসা।

ভূমিরেখা দেশহীন মানুষের কাহিনি। তীব্র দেশপ্রেম আর ভালোবাসার গল্প।’

উপন্যাসের ভূমিকাতে দীপু মাহমুদ লিখেছেন:

ভূমিরেখা উপন্যাস শুরু হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের তুলাতুলি গ্রাম থেকে। শেষ হয়েছে বাংলাদেশে সীমান্তঘেরা নাফ নদীর তীরে। ঘটনার বড়ো অংশ জুড়ে আছে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবির। কাহিনির পটভূমি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষের জীবন। তবু ভৌগোলিক সীমারেখা ছাপিয়ে ভূমিরেখা হয়ে উঠেছে দেশপ্রেম আর ভালোবাসার গল্প।

কাহিনি বোঝার সুবিধার্থে উপন্যাসে কথোপকথনে বর্মি বা মিয়ানমারের ভাষা কিংবা কথ্য চীনা-তিব্বতী বা তিব্বতী-বর্মি ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। বিদেশি গল্পের বাংলা অনুবাদে কথোপকথনে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়। বাংলা ভাষায় লেখা এই উপন্যাসের শুরুর পটভূমি বাংলাদেশের বাইরে হলেও পাঠক বাংলা ভাষাভাষী হওয়ায় এখানে মূলগল্পে কথোপকথনে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। উপন্যাসে কাহিনিরস বা রসবোধের প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাঠকের অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পেয়েছে।

কাহিনির শেষভাগের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলার কুতুপালংয়ে। সহজভাবে বর্ণনা করতে কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উচ্চারণ পরিহার করে এখানেও কথোপকথনে প্রমিত বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

সংলাপের জটিলতায় আটকে গিয়ে থমকে না থেকে সরলপথে গল্প উপস্থাপন করেছি। উপন্যাসে উল্লিখিত গ্রাম বা জায়গাগুলো মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আছে। ঘটনা, মানুষের নাম ও সংস্কৃতি বাস্তব। এই উপন্যাস ঐতিহাসিক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত। ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং ঘটা সম্ভব এমন কল্পনার মিশেলে গড়ে উঠেছে ভূমিরেখা।

গল্প পাঠকের ভালো লাগুক। শরণাগত মানুষ ফিরে পাক তার নিজ ভূমি, আপনজন- এই আমার প্রত্যাশা।

লেখক পরিচিতি: দীপু মাহমুদ

দীপু মাহমুদ। জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৫ মে। শৈশব ও বাল্যকাল কেটেছে মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে চুয়াডাঙ্গা জেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামে। বেড়ে ওঠা স্নেহময়ী, কালিশংকরপুর, কুষ্টিয়া।

পড়াশোনা করেছেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতায়।

আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে ।

উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ছোটগল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ- সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি সক্রিয়।

প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা পয়ষট্টি। লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী স্বর্ণপদক, সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পদক, সুনীতি অ্যাওয়ার্ড ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ সম্মাননা। স্

ত্রী রূপা, যমজ দুই পুত্রসন্তান খালিদ ও গালিব। যাদের নিয়ে দীপু মাহমুদের লেখালেখির নিজস্ব ভুবন।

 

 

 

Comments

comments

x