আজ বৃহস্পতিবার | ২১ জুন২০১৮ | ৭ আষাঢ়১৪২৫
মেনু

পাখির ডাকে কথা বলেন এই গ্রামের বাসিন্দারা

মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ ডিসে ২০১৭ | ১:৪৬ অপরাহ্ণ

শব্দই যে ভাব প্রকাশের শেষ কথা তা আরও একবার প্রমাণ করেছে তুরষ্কের কুস্কয় আর স্পেনের লা গোমেরা থেকে ভারতের চেরাপুঞ্জির কংথং। ভৌগলিক অবস্থানে তিনটি জায়গা তিনটি পৃথক দেশের হলেও তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু একটা ‘‌পাখির ডাক’‌। সেটাই তাদের মিলিয়ে দিয়েছে একজায়গায়।

মেঘালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ছোট্ট একটি গ্রাম কংথং। গ্রাম বললে ভুল হবে, আমাদের শহুরে চোখে একটি পাড়াও বোধ হয় এর থেকে বড় হয়। শুধুমাত্র কথা বলার মাধ্যমটাই এদের আলাদা করে দিয়েছে। মিলিয়ে দিয়েছে তুরষ্ক আর স্পেনের সঙ্গে।

যদিও বিশিষ্ট ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের দাবি, পাখির ডাকে কথা বলাটা একটি আমেরিকান ট্র্যাডিশন। আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একদল আদিবাসী প্রজাতির মধ্যে নাকি এই ভাবে কথা বলার প্রচলন রয়েছে।

তারা নাকি মনে করেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক যোগ রয়েছে। তারা সকলেই গাছ, মাটি, জল, বায়ু, পাখির অংশ। সেকারণেই পাখির ডাকই তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হওয়া উচিত। কোনও কারণে সেই ধারনাটাই চেরাপুঞ্জির এই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ধারণা মেনে নিয়েই তারা পাখির ডাকে কথা বলাটা দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করেছেন।

এখানকার বাসিন্দারা এভাবে কথা বলাটাকেই নিজেদের পরিচিতি বলে মনে করেন। এটাই তাদের অস্তিত্বকে বিশেষ করে তুলেছে এই বিশ্বাস নিয়েই নিজেদের কথা বলার মাধ্যমকে জিইয়ে রেখেছে।

ঠিক একই ভাবে তুরষ্কেরর কুস্কয় এবং স্পেনে লা গোমেরার বাসিন্দারা অনায়াসে তারা কথা বলে চলেন পাখির ডাকে। ছোট থেকে বড় সকলেই অভ্যস্ত এই মাধ্যমে। একে অপরের কুশল বিনিময় থেকে শুরু করে ফোন নম্বর আদান প্রদান সবই হয় পাখির ডাকের মাধ্যমে।

স্পেনের লা গোমেরায় আবার পাখির ডাক শেখানোর আলাদা স্কুল আছে। সেখানে গ্রামের শিশুদের পাঠান তাদের মা–বাবারা। সঠিক ডাক সঠিক ভাবে নকল করা শেখানো হয় সেখানে। কুস্কোয়ের বাসিন্দা নাজমিয়া কাকির বংশ পরম্পরায় এখানেই থাকেন।

ঠাকুরদা–ঠাকুমার (দাদা-দাদী) কাছে শিখেছিলেন এই ভাষা। তারপর থেকে আর কখনও অসুবিধা হয়নি। পাখির ডাকে কথা বলেন মানে এমন নয় যে তাদের নিজস্ব ভাষায় তারা কথা বলতে পারেন না, বা বলেন না। গোপন কথা বলতে গেলে কিন্তু মাতৃভাষাই ভরসা। পাখির ডাকে কথা বলাটা অনেকটা তাদের অভ্যাসের মত।

পাহাড়ি এই গ্রামের পেশা বলতে একটাই, চাষবাস। আর এই কাজ করেই তারা আর্থিক দিক দিয়ে স্বনির্ভর। কিন্তু নিজেদের অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। পাখির ডাকও তো একটা ভাষা। যার সঙ্গে মনের যোগ রয়েছে, বিশ্বাস করেন তারা। শব্দ তো ব্রহ্ম, হোক না সে পাখির ডাক। ‌‌

Comments

comments

x