আজ শুক্রবার | ১৫ ডিসেম্বর২০১৭ | ১ পৌষ১৪২৪
মেনু

ঢাকায় পোপ ফ্রান্সিস

মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ নভে ২০১৭ | ১:১৩ অপরাহ্ণ

ছবি- সংগৃহীত

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোপের বহনকারী বিশেষ বিমান অবতরণ করে। এসময় বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে পোপকে স্বাগত জানানো হয়। পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বের এক দশমিক ২ বিলিয়ন রোমান ক্যাথলিকদের নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্যাথলিক বিশপ কনফারেন্স অব বাংলাদেশের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় এসেছেন। আগামী ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রোমে ফিরে যাবেন তিনি। তিরিশ বছর আগে ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল এবং ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী উপকূলীয় সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাসের পটভূমিতে পোপ ষষ্ঠ পল এসেছিলেন বাংলাদেশে। পোপ ফ্রান্সিস এই ভূখণ্ডে তৃতীয় পোপ। বিমানবন্দর থেকে প্রথমেই পোপ যাবেন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এবং ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। তিনি জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন- বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও।

সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ৬টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ ও ঢাকায় কর্মরত মহলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পোপ। এখানে তার সম্মানে রাষ্ট্রপতির নৈশভোজে অংশ নেবেন। ১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় তিনি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা এবং যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ওই দিন দুপুর সোয়া ২টায় তিনি ভ্যাটিকান দূতাবাসে যাবেন। সেখানেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দূতাবাস থেকে ফিরে বিকেল ৪টায় রমনার প্রবীণ যাজক ভবনে বাংলাদেশের বিশপদের বিশেষ সভায় বক্তব্য দেবেন পোপ। বিকেল ৫টায় আর্চবিশপ হাউসের মাঠে শান্তির জন্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃমাণ্ডলিক সমাবেশেও বক্তব্য দেবেন তিনি।

২ ডিসেম্বর পোপ ফ্রান্সিস তেজগাঁও মাদার তেরেসা ভবন, তেজগাঁও কবরস্থান, পুরাতন গির্জা পরিদর্শন এবং সবশেষে নটর ডেম কলেজে যুব সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। তিন দিনের সফর শেষে ২ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস। পোপের ঢাকা সফর বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের যে কোনো দেশে পোপের সফরকে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরসহ গত তিন বছরের মধ্যে তার তিনটি দেশ সফরের তালিকার একটি বাংলাদেশ। ঢাকা সফরে আসার আগে পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার সফর করছেন। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা, গণহত্যায় প্রাণভয়ে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইয়াঙ্গুন ও নেপিদোতে পোপের সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক-সামাজিক কঠোর বাস্তবতা ও স্পর্শকাতরতার কারণে পোপ ফ্রান্সিস সেখানে তার ভাষণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। তবে তার ভাষণে মিয়ানমারের সব ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির পথে সমাধানের কথা জোরালোভাবে বলেছেন। আগে ভ্যাটিকান থেকে দেয়া বিবৃতিতে তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা করেছেন এবং তাদের ‘ভাই ও বোন’ বলে উল্লেখ করেছেন। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণনিষ্ঠুরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানিয়ে আসছেন পোপ ফ্রান্সিস। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে সই করলেও রাখাইনে এখনও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় থেকেই গেছে। এ পরিস্থিতিতে পোপ ফ্রান্সিসের মিয়ানমার সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেই বিশ্নেষকদের অভিমত।

Comments

comments

x