আজ শুক্রবার | ১৫ ডিসেম্বর২০১৭ | ১ পৌষ১৪২৪
মেনু

ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করেন পিয়ার বক্স

মানচিত্র ডেস্ক | ২৪ নভে ২০১৭ | ২:৩৮ অপরাহ্ণ

ছবি- সংগৃহীত

‘ভিক্ষা যদি করতেই হয়, ঘোড়ায় চড়েই করব’ এমন একটি প্রবাদ সত্য প্রমাণ করেছেন রাজশাহীর পিয়ার বক্স। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করেন ঘোড়ায় চড়ে। দুই পা ছাড়াই ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ান শহর থেকে গ্রাম। রোজগারও ভালো। ঘোড়া আর সংসার মিলে ভালোই আছেন শখের এ মানুষটি। রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার পাশের এক বস্তিতে থাকেন পিয়ার বক্স। শুক্রবার দুপুরে নগরীর উপশহর নিউমার্কেটের সামনে ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করতে দেখা গেল তাকে। তিনি জানালেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই চলে তার সংসার।

পিয়ার বক্সের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়িতে। ১৯৭৪ সালে তিনি টগবগে যুবক। কিছুদিন আগেই বিয়ে করেছেন। জীবনের স্বপ্ন সাজাতে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু সে সময়ই ঘটে এক দুর্ঘটনা। এতে দুটি পা হারাতে হয় তাকে। নিমেষেই মুখ থুবড়ে পড়ে তার সব স্বপ্ন। তারপর জীবিকার খোঁজে স্ত্রীকে নিয়ে পিয়ার বক্স চলে আসেন রাজশাহী শহরে। অনেক খুঁজেও সে সময় কোনো কাজ পাননি শুধু দুটি পা না থাকার কারণে। তাই শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু দুই পা না থাকায় ভিক্ষা করতে এলাকা ঘুরতেও তার সমস্যা হয়। তাই অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে পিয়ার বক্স কেনেন এই ঘোড়া। তারপর থেকে চলছে তো চলছেই।

জানা যায়, প্রতিদিন সকালে ঘোড়ায় চড়ে তিনি ভিক্ষা করতে বের হন। দুই পা না থাকলেও সাবলীলভাবেই ঘোড়ার পিঠে বসে থাকেন তিনি। লাগাম ধরে ঘোড়ার নিয়ন্ত্রণও থাকে নিজের হাতে। ভিক্ষাবৃত্তি শেষে সন্ধ্যায় ফেরেন ঘরে। পিয়ার জানালেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানেরা বিয়ে করে যে যার মতো সংসার করছে। এখন স্ত্রী আর ঘোড়াটা নিয়েই তার সংসার। সকালে তাকে তার স্ত্রী ঘোড়ার পিঠে তুলে দেন। ঘোড়ার পিঠে সাজিয়ে দেন ভিক্ষার ঝুলিও। এরপর সারাদিন ঘোড়ার পিঠেই ঘুরে বেড়ান পিয়ার। শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামেও। সারাদিন ঘুরে যা জোটে তাই নিয়ে সন্ধ্যায় ফেরেন বাড়িতে।

তবে পিয়ার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দিন যতো যাচ্ছে তার আয় ততো কমছে। সারাদিন ঘুরে এখন মাত্র ৩৫০-৪০০ টাকা আয় হয় তার। এতে বর্তমান বাজার মূল্যে মোটে দু-চার কেজি চাল মেলে! সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আগে ঘোড়ার খাবার, তারপর নিজেদের। ঘোড়ার পেছনেই ব্যয় করতে হয় আয়ের এক তৃতীয়াংশ। তারপরও খুশি পিয়ার বক্স। জানালেন ঘোড়াটাই তার সন্তান। শেষ বয়সে বাবা-মা সন্তানদের যেমন অবলম্বন ভাবে, ঘোড়াটাও তার কাছে তাই। ঘোড়াটা আছে বলেই ঘরে চুলো জ্বলছে তার!

Comments

comments

x