আজ সোমবার | ২০ নভেম্বর২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

ছেলে তাহাবিকে সুস্থ করতে মায়ের আকুতি

পাবনা প্রতিনিধি | ১৪ নভে ২০১৭ | ১:৪৬ অপরাহ্ণ

Tahabi

পুরো শরীর জুড়ে দগ দগে ঘা। প্রতিবেশীরা নাম দিয়েছে ‘পচা’। ঘায়ের যন্ত্রণায় বাকশক্তিহীন শিশুটির মুখে হাসি নেই। এক ধরণের বিষন্নতা তার চোখে-মুখে। দিনমজুর বাবা ছেলেকে সুস্থ করতে ডাক্তার, কবিরাজ কোন কিছুই বাদ দেননি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও বাড়িতে পোষা গরু-ছাগল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সেই ঋণের টাকা এখন পর্যন্ত শোধ হয়নি। সুস্থ না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন দিনমজুর বাবা। পাবনার চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলী ও গৃহিনী মৌসুমী খাতুন দম্পতির ছেলে তাহাবি জন্মের পর থেকেই মারাত্মক অপুষ্টি ও জটিল চর্ম রোগে ভুগছে। তবে মা মৌসুমী খাতুন ছেলেকে সুস্থ করতে দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন।

মৌসুমী খাতুন জানান, জন্মের পর তাহাবির হাঁটুতে লাল রক্তের জমাট বাধে। পরে সেটি ফেটে গিয়ে ঘা হয়। এরপর পুরো শরীর জুড়ে ঘা ছড়িয়ে পড়ে। ঘা শুকিয়ে চটা পড়ে। কয়েকদিন পর আবারও সেখানে ঘা হয়। দেখে মনে হবে আগুনে পোড়া কোন এক শিশু। ঘা-এর যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি সারারাত ঘুমাতে পারে না। টানা তিন বছর চিকিৎসা করানোর পর কোন উন্নতি না হওয়ায় এবং অর্থের অভাবে বর্তমানে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে তার। মনের দুঃখে চিকিৎসকের লিখে দেয়া ব্যবস্থাপত্র পানিতে ফেলে দিয়েছেন বাবা হোসেন আলী। মুখে বুকের দুধ খেতে পারে না বলে এক সময় কৌটার দুধ খাওয়ানো হতো তাকে। কিন্তু এখন টাকা নেই; তাই দুধ খাওয়া বন্ধ!

মৌসুমী খাতুন বলেন, বাবা হাল ছেড়ে দিলে কি হবে? আমি তো মা। ছেলের কষ্ট সহ্য হয় না।  ডাক্তার বলেছে ভাল কোন জায়গায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে। আমি মেয়ে মানুষ, টাকা পাব কোথায়?  ছেলেকে বাঁচাতে তিনি সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. স ম বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, অপুষ্টি থেকে সাধারণত এমন রোগ হয়ে থাকে। সচারচর যা এখন আর দেখা যায় না। শিশুটিকে সুস্থ করতে বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’

Comments

comments

x