আজ মঙ্গলবার | ১৬ জানুয়ারি২০১৮ | ৩ মাঘ১৪২৪
মেনু

সুস্থ হয়ে ডাক্তার হতে চায় রিত্না

পবিত্র তালুকদার, পাবনা | ১২ নভে ২০১৭ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

মেয়েটির সাজগোজ দেখে বোঝার উপায় নেই পাঁচ বছর ধরে সে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা বয়ে চলেছে। তবুও মুখে অমলিন হাসি। কষ্টের ছাপ নেই মুখমণ্ডলে। হুইল চেয়ার আর বিছানা এখন তার নিত্যসঙ্গী। পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাঁটাখালী উত্তরপাড়া গ্রামের রতন আলী ও আসমা খাতুন খাতুনের মেজ মেয়ে রিত্না আখতার রিতা (৯)।

হাড়ের পরিপক্কতার অভাবে চার বছর বয়সে পায়ের হাড় ভাঙ্গে রিতার। পরে একই জায়গায় আরো ১০ থেকে ১২ বার হাড় ভেঙ্গে যায়। এখন সে পঙ্গু হওয়ার পথে। পায়ের যন্ত্রণায় কাতর রিতার চিৎকারে প্রতিবেশিরা বিরক্ত হন। তাই রিতার বাবা পেশায় নরসুন্দর (নাপিত) রতন আলী মেয়ের যন্ত্রণা সইতে না পেরে তার নানী জমেলা খাতুনের কাছে রেখেছেন।

ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে নানী জমেলা খাতুন এখন রিতাকে নিয়ে হাটে-বাজারে ভিক্ষা করেন। তবে রিতার ভিক্ষা করতে ভালো লাগে না। সে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে চায়। তার মতো রোগীদের সে সারিয়ে তুলতে চায়। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মেজ রিতা। সেলুনে যা উপার্জন হয় সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয় রতন আলীকে। বাবা রতন আলীর পক্ষে রিতার চিকিৎসা করা দুঃসাধ্য ব্যাপার।

রতন আলী জানান, রিতার পা ভেঙ্গে যাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছেন। ভালো না হওয়ায় এবং টাকার অভাবে শরণাপন্ন হন নাটোরের বনপাড়া এলাকার এক কবিরাজের কাছে। কবিরাজ তার বাড়িতে রিতাকে ২৭ দিন রেখে চিকিৎসা দেন। এরপর ক্রমেই রিতার পায়ের অবস্থার অবণতি হতে থাকে।

এর পর রিতাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা। পরে বাড়ির গরু-ছাগল বিক্রি করে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী (র.) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অর্থোপেডিক সার্জন আবদুর রশিদ রিতার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বলেন, ‘অস্টোজেনেসিস ইন পারফেক্টা’ রোগে আক্রান্ত রিতা। হাড়ের পরিপক্কতার অভাবে এমনটা হয়ে থাকে।

পরে তিনি হাড় শক্ত হওয়ার ইনজেকশন দিতে বলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ইনজেকশন দেয়া হয়নি রিতার। বর্তমানে মাংস থেকে ভাঙ্গা হাড় বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। হাল ছেড়ে দিয়েছেন রিতার বাবা। এখন পথে পথে নানীর সঙ্গে ভিক্ষা করে রিতা। তবে রিতাকে একবার ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান রতন আলী।

অশ্রুসিক্ত রতন আলী বলেন, ‘টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেকে সুস্থ হয়ে গেছেন। আমার বিশ্বাস তিনি হতভাগ্য পিতার আকুতি শুনবেন। তিনি আমার মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবেন। সুস্থ হয়ে আমার মেয়ে আবারও স্কুলে যেতে পারবে।’

রোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. সবিজুর রহমান জানান, ‘সাধারণত হাড়ের অপরিপক্কতা থেকে এই রোগ হয়। দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ কোন অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে।’

Comments

comments

x