আজ সোমবার | ২০ নভেম্বর২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

চুরি নয়, চাচির পরকীয়া দেখে ফেলায় আজিজাকে হত্যা

মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ অক্টো ২০১৭ | ১:২১ অপরাহ্ণ

আজিজা

মোবাইল চুরি করার জন্য নয়, চাচিকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরের খৈনকুট গ্রামের কিশোরী আজিজা বেগমকে। পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যাওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে চাচি বিউটি বেগম। এজন্য ১৪ বছর বয়সী আজিজার বিরুদ্ধে আনা হয় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ। এরপর শুক্রবার তাকে বাড়ির পাশ থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আজিজা হত্যা মামলায় শনিবার রাতে গ্রেফতার তমুজা বেগম পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নিহত আজিজা খৈনকুট গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে। সে স্থানীয় খৈনকুট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সাত্তার স্থানীয় একটি মুরগির খামারে চাকরি করেন। শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজা মারা যায়। মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে আবদুস সাত্তার শনিবার রাতে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বিউটি বেগমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো- বিউটির মা সানোয়ারা বেগম, ভাই রুবেল মিয়া ও ফুফু শাশুড়ি তমুজা বেগম। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। তমুজা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা পলাতক।

তমুজার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন মাস আগে আজিজার চাচা মালয়েশিয়া যায়। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর তার চাচি বিউটি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তাকে প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে আজিজা। এরপর থেকেই আজিজাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে সে। সাজানো হয় মোবাইল চুরির নাটক। পরিকল্পিতভাবে মোবাইল চুরির অপবাদ দেয়া হয় আজিজা ও তার বোনকে। তবে বিউটির পরকীয়া প্রেমিকের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

আজিজার ভাই সুজন ও মা রেহেনা বেগম বলেন, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে গাছের পাতা কুড়ানোর সময় আজিজাকে তার চাচি বিউটি ও রুবেল একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। রাত সাড়ে ৮টায় বাড়ির অদূরে একটি টিলায় নিয়ে আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। আজিজার চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাত দেড়টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সুজন জানান, তার চাচি বিউটি আট-দশ দিন আগে আজিজার বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তোলে। চাচির মা ও স্বজনরা এটা নিয়ে আজিজাকে সন্দেহ করে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল ফোন ফেরত না দিলে আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয় তারা। শনিবার সকালে আজিজার মৃত্যুর খবর খৈনকুট গ্রামে পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনজুড়ে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয় তমুজা বেগমকে। মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় রেহেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে চোর না। বেশ কয়েকদিন ধরেই আজিজার সঙ্গে তার চাচি খারাপ আচরণ করত। বিভিন্ন অজুহাতে বকা দিত।

মামলার বাদী আজিজার বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, আজিজা তার চাচির পরকীয়ার প্রত্যক্ষদর্শী। আর এ ঘটনা যেন দুই কান না হয় সেজন্য আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যে অভিযোগ করেছে প্রাথমিকভাবে তা আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শিবপুর থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, চাচিকে তার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে আজিজাকে পুড়িয়ে মারা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তমুজা বেগম জানিয়েছে। নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কে কে জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় খৈনকুট বাজারের কেরোসিন ব্যবসায়ী মিজান ও তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

Comments

comments

x