আজ বুধবার | ২২ নভেম্বর২০১৭ | ৮ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান,বসল স্প্যান

মানচিত্র ডেস্ক | ৩০ সেপ্টে ২০১৭ | ২:১০ অপরাহ্ণ

পদ্মাসেতু

স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। শনিবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে স্প্যান বসানোর কাজ তদারকি করেন। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ২০০ টন ওজনের স্প্যানটি ৪ হাজার টন ক্ষমতার একটি ক্রেনে তোলা হয় গত রোববার। এরপর মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ক্রেনটি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সময় লাগে দুই দিন। পরে গতকাল সন্ধ্যায় এটি ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির কাছে নিয়ে ক্রেনের মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা হয়। আজ সকালে বাকি আনুষঙ্গিক কাজ সেরে সোয়া ১০টার দিকে স্প্যানটি বসানো হয়। পুরো কাজটি হয় ক্রেন আর প্রযুক্তির সাহায্যে। এই কাজ দেখার জন্য মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সেতু বিভাগ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সেতু বিভাগ। এই বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুতে মোট খুঁটি (পিলার) হবে ৪২টি। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে। বর্তমানে ১৬টি খুঁটি নির্মাণের কাজ চলমান আছে। পর্যায়ক্রমে সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও অন্তত একটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সেতুবিভাগের। পদ্মাসেতুর প্রতিটি খুঁটির নিচে ছয়টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাইলের সংখ্যা ২৪০টি। ইস্পাতের এসব পাইল মাটির নিচে ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার পর্যন্ত গভীরে বসানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৮টি পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ১৭টি পাইল বসানোর কাজ চলমান আছে।

২০১৪ সালের ১৮ জুন মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। তাতে খরচ ধরা হয় ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনেরই আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। এই কাজের খরচ ধরা হয় ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পদ্মাসেতুর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুর প্রকল্পের নাম ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প’। পদ্মাসেতুর ধরণ দ্বিতলবিশিষ্ট।মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। এই সেতু কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

Comments

comments

x