আজ রবিবার | ১৯ নভেম্বর২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করলো সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিতা

পাবনা প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টে ২০১৭ | ১:৫৯ অপরাহ্ণ

বাল্য বিবাহ বন্ধ প্রতীকি ছবি

পাবনার চাটমোহরে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিতা খাতুন (১৩) অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন। বাল্য বিবাহ বন্ধ করায় সহপাঠীসহ সমাজরে কাছে সাহসের রোল মডলে হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেনে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া গ্রামের নায়েব আলী খানের মেয়ে মিতা খাতুন। মেধাবী এই ছাত্রী পাঁচুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে ।

জানা গেছে, বুধবার মিতা খাতুনের সাথে পার্শ্ববর্তী মূলগ্রাম ইউনিয়নের নেউতীগাছা গ্রামের আকুব্বর আলীর ছেলে ফরিদ আলীর (১৯) সাথে বিয়ের দিন ধার্য্য করেন মিতার পিতা নায়েব আলী। সেই অনুযায়ী সকাল থেকেই মিতাদের বাড়ি জুড়ে ছিল বিয়ের আমেজ। কিন্তু এতো অল্প বয়সে মিতা বিয়ে করতে রাজি ছিল না। বিষয়টি মিতা তার বাবা-মাকে জানায়। কিন্তু পরিবার তার বিয়ে বন্ধ না করলে প্রথমে সহপাঠী পরে এলাকাবাসীদের বিষয়টি অবহিত করে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা তার পরিবারকে বোঝাতে ব্যর্থ হলে পরে ইউএনও বেগম শেহেলী লায়লাকে জানান। বিয়ে বন্ধে ইউএনও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানী সাহা ও থানা পুলিশকে দায়িত্ব দিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে মিতার বাল্য বিয়েটি বন্ধ হয়।  এভাবে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পায় ১৩ বছর বয়সী মিতা।

পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা কষ্টসাধ্য বিষয় বলে ইউএনও বেগম শেহেলী লায়লা জানান, মেয়েটি (মিতা) অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। এতো অল্প বয়সের একটি মেয়ে তার নিজের বিয়ে বন্ধ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

এর আগে গত সোমবার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানী সাহার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ব্যাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পায় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মুন্নি আরা খাতুন (১১)। মুন্নি উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘইলবাড়ি গ্রামের রবিউল করিমের মেয়ে। একই ইউনিয়নের পাকপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে হাসান আলীর সাথে বিয়ে ঠিক হয় মুন্নির। পরে খবর পেয়ে ইউএনও বেগম শেহেলী লায়লার নির্দেশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সহযোগিতায় বিয়েটি বন্ধ করেন চিত্রা রানী সাহা।

Comments

comments

x