আজ রবিবার | ১৯ নভেম্বর২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

মানচিত্র ডেস্ক | ১২ সেপ্টে ২০১৭ | ৩:০৪ অপরাহ্ণ

ট্রাম্পমমমমমম ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ১৯ সেপ্টেম্বর বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। এ সময় সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত থাকবেন। জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে তাই সবার দৃষ্টি থাকবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। তাঁর এ ভাষণ কেমন হবে, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে কৌতূহলের শেষ নেই। আমেরিকার অস্থির রাজনীতির শিকার জনগণ এবং হতবিহ্বল বিশ্ববাসীকে তিনি কী শোনাবেন, এ নিয়ে চলছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর আমেরিকার বিদেশনীতি সোজা পথে এগোয়নি। আমেরিকাকে নানা বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বরাজনীতি সামাল দিতে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ জাতিসংঘে দাঁড়িয়েই বলেছিলেন ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’র কথা, ‘বাজারকেন্দ্রিক গণতন্ত্রের’ কথা, সর্বোপরি দুনিয়ার সর্বরোগ নিরাময়ের ‘বিশ্বায়নের’ কথা। আর এ জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে পরের প্রেসিডেন্ট, জর্জ ডব্লিউ বুশ জাতিসংঘকে বলেছিলেন, ‘হয়তো এ সংস্থা অবাধ্য শাসক আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। নতুবা আমেরিকা একাই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। হয় তুমি আমাদের পক্ষে, না হয় আমাদের বিপক্ষে।’

জাতিসংঘের ব্যর্থতা আবিষ্কারে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘বহুত্ববাদ’ ধারণায় ফিরে যান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে বিশ্বায়ন যুগের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁর বিদেশনীতি আমেরিকাকে ১০০ বছর আগের বিচ্ছিন্ন থাকার যুগে ফিরিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯১৯-২০ সালে আমেরিকার সিনেটে তৎকালীন লীগ অব নেশনস (আজকের জাতিসংঘ) থেকে আমেরিকাকে বের করে আনার জন্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মিনতি করে সিনেটের সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন।

১৯২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ওয়ারেন জি. হার্ডিং, এমনকি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট আন্তর্জাতিক মানসিকতা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার মুখে আমেরিকাকে জাতীয়তাবাদী পথেই রেখে দেন। পার্ল হারবারে জাপানের হামলা আমেরিকার বিচ্ছিন্ন থাকার নীতিকে নাড়া দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধ পর্যন্ত আমেরিকার আন্তর্জাতিকতাবাদী চেতনা ৭৫ বছর টিকে ছিল। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় সে যুগের ইতি ঘটায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকা সবার আগে, আমেরিকাই প্রথম।’

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ট্রাম্পের অনাস্থা তাঁর আগের অভিযোগে প্রতিফলিত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, জাতিসংঘ আমেরিকার ক্ষমতাকে সীমিত রাখছে এবং আমেরিকার করদাতাদের ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের অবস্থান জাতিসংঘ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্টদের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ওবামা জাতিসংঘকে শান্তি, প্রবৃদ্ধি ও মানুষের স্বাধীনতাকে সামনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার বাজেটে জাতিসংঘের জন্য দেওয়া চাঁদার পরিমাণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এমন হতে পারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং কথিত ইসলামি উগ্রবাদীদের নির্মূলে জাতিসংঘের কাছে ভূমিকা রাখার দাবি তুলতে পারেন। তিনি জাতিসংঘে এমনও বলতে পারেন যে এ সংস্থার জন্য আমেরিকার অর্থায়নকে নিশ্চিত মনে করা ঠিক হবে না। এখন আমেরিকা সবার আগে। এমন জাতীয়তাবাদী বাগাড়ম্বরে ট্রাম্পের সমর্থকদের উল্লসিত করছে। সমর্থকেরা ইতিমধ্যেই একমত যে জাতিসংঘকে আর উদ্ধার করা যাবে না এবং জাতিসংঘ থেকে আমেরিকার বেরিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়।

তবে আশার কথা, ক্যাপিটাল হিলে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রত্যাশার সমর্থকেরা এখনো সংখ্যালঘু। ট্রাম্প কতখানি সামনে যাবেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়। একসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে গরম করতেন ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজ, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ইরানের নেতা আহমাদিনেজাদ প্রমুখ। সময় বদলে গেছে, মাঠে এখন নতুন নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ববাসীকে কী বার্তা দেন, তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।

 

Comments

comments

x