আজ মঙ্গলবার | ২৬ সেপ্টেম্বর২০১৭ | ১১ আশ্বিন১৪২৪
মেনু

ওয়াইমাতা

দীপু মাহমুদ | ০৪ সেপ্টে ২০১৭ | ১:২০ পূর্বাহ্ণ

Dipu Mahmud

গিটো মন খারাপ করে ঘরের কোনায় বসে আছে। তার মন বেশি খারাপ। কিছুক্ষণ আগে সে কান্নাকাটি করেছে। যিশা তার খেলনা ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। বাবা গতরাতে নতুন খেলনা কিনে এনেছেন। সাদা মোটর সাইকেলের উপর নীল পুলিশ বসে আছে। সুইচ অন করলে বিপ বিপ করে আলো জ্বলে। তখন মোটর সাইকেল চলতে থাকে। তাতে পিপ পিপ শব্দ হয়।

মোটর সাইকেলের ভেতরের ব্যাটারিগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। যিশা সেগুলো বের করেছে। ঘরের একপাশে নীল পুলিশ কাত হয়ে পড়ে আছে। আরেকপাশে মোটর সাইকেল।

যিশার বয়স দেড় বছর। সে গিটোর থেকে সাড়ে পাঁচ বছরের ছোট। খেলনা ভাঙার পর খুব জোরে যিশার দুই গাল চেপে ধরেছে গিটো। আর চিৎকার করে বলেছে, ‘আমার খেলনা ভাঙলি কেন বল। বল তুই আমার খেলনা কেন ভেঙেছিস?’

যিশা ‘ইতামি কিতাউ ইতাক ম্যাচিউ’ কী সব বলে যাচ্ছে। যিশা হাত-মাথা নেড়ে এমনভাবে কথা বলে মনে হয় যেন সবকিছু বুঝে বলছে। কোনো কথা বোঝা যায় না। তার সব কথা হচ্ছে ‘এ্যাইজ জ্যাম ফিম ফ্যাম’ ধরনের।

গিটোর ইচ্ছে করছে কষে যিশার গালে থাপ্পড় দিতে। থাপ্পড় দেওয়া যাচ্ছে না। ইশকুলে মিস বলেছেন কাউকে চড় মারা খুব খারাপ। গিটো খারাপ কাজ করে না।

গিটো রাগে দুই হাত দিয়ে যিশার মুখ চেপে ধরেছে। সে গোঁ গোঁ করছে। তখন ভাঙা মোটর সাইকেলের লাল আলো বিপ বিপ করে জ্বলে উঠল। মোটর সাইকেলের পিছনে তারের পেঁচানো অ্যান্টেনা। তার মাথায় লাল আলো। সেখান থেকে ঝিনঝিন শব্দ আসছে।

কেউ একজন বলল, ‘গিটো তোমার কেন মন খারাপ?’

গিটো কিছু বলল না। সে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে। ঘরে কেউ নেই। কে কথা বলছে সে বুঝতে পারছে না।

‘আমার নাম ওয়াইমাতা।’ সেই কেউ একজন আবার বলল, ‘আমি তোমার বন্ধু।’

গিটো দারুণ অবাক হয়েছে। ভাঙা খেলনার ভেতর ঘাস ফড়িংয়ের মতো দেখতে একজন দাঁড়িয়ে আছে। তার গায়ের রঙ সবুজ। মাথায় লম্বা দুটো শুঁড়। দুই পায়ে ভর দিয়ে মানুষের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

ওয়াইমাতা বলল, ‘তুমি কেন মন খারাপ করেছ?’

গিটো প্রথমে ভয় পেয়েছিল। তবে খেলনা ভাঙার দুঃখে সে ভয় ভুলে গেল। গিটো বলল, ‘যিশা খুব দুষ্টু। সে আমার খেলনা ভেঙে ফেলেছে। তাকে নিষেধ করেছি। তবু ভেঙেছে। বাবা আমার জন্য নতুন কোনো খেলনা কিনে আনলেই যিশা ভেঙে ফেলে।’

‘সে কী বলছে তুমি বুঝতে পারছ?’ জিগ্যেস করল ওয়াইমাতা।

‘যা জিগ্যেস করা হয় সে শুধু আউউ আক করে। কথা বলতে পারে না।’ গিটো বলল।

ওয়াইমাতা বলল, ‘সে কি বলছে শোনো।’

গিটোর কানের ভেতর ওয়াইমাতা ইয়ারফোনের মতো কিছু একটা লাগিয়ে দিল। যিশা তখনও হাত-মাথা নেড়ে কথা বলে যাচ্ছে। গিটো শুনল যিশা বলছে, ‘আমি তোমার খেলনা ভাঙিনি। দেখছিলাম ওটা কেমন করে চলে। ওর ভেতরে কী আছে।’

গিটো ভীষণ চমকে গেছে। সে ওয়াইমাতাকে জিগ্যেস করল, ‘এটা তুমি কেমন করে পারলে?’

ওয়াইমাতা বলল, ‘আমার বাড়ি অন্য গ্রহে। ওখান থেকে আসার সময় তোমাদের কথা বোঝার জন্য এই যন্ত্র সঙ্গে এনেছি। এটা দিয়ে সকলের কথা বোঝা যায়।’

গিটো বলল, ‘তোমার বাড়ি কোথায়?’

‘কেপলার ফোর ফাইভ টু বি গ্রহে। এখান থেকে এক হাজার চারশ আলোকবর্ষ দূরে।’ বলল ওয়াইমাতা।

গিটো বলল, ‘আমার খেলনার ভেতর কী আছে তা যিশা দেখতে চায় কেন?’

ওয়াইমাতা বলল, ‘সে বড় হয়ে বিরাট ইঞ্জিনিয়ার হবে। নাহয় বিজ্ঞানি।’

গিটো দেখল যিশা তার নতুন কেনা রোবট এনে ভেঙে ফেলেছে। রোবটের ভেতর থেকে ব্যাটারি আর তার বের করেছে। গিটো কিছু বলল না। সে জানে যিশা ইচ্ছে করে খেলনা ভাঙে না। সে দেখতে চায় খেলনা কেমন করে চলে।

গিটো আলতোভাবে গাল ছুঁয়ে যিশাকে আদর করে দিল। যিশা গিটোর গলা জড়িয়ে ধরে ‘আউজি উম মম্মা’ শব্দে কিছু বলল। গিটো যিশার কথা বুঝতে পারল। যিশা বলছে, ‘ভাইয়া তুমি খুব ভালো।’ ওয়াইমাতা তখন চলে গেছে।

Comments

comments

x