আজ রবিবার | ২৪ সেপ্টেম্বর২০১৭ | ৯ আশ্বিন১৪২৪
মেনু

‘মা হয়ে কি করে ছেলের মৃত্যু মেনে নেব’

পাবনা প্রতিনিধি | ১০ আগ ২০১৭ | ১:১২ পূর্বাহ্ণ

Mmmmmmmmm ছবি-মায়ের কোলে আমির হামজা।

আট মাস বয়সী আমির হামজা। যে বয়সে হাসি মুখে মায়ের কোলে বসে খেলা করার কথা সে বয়সে মুখে হাসি নেই শিশুটির। চোখের নিচের কালো রেখা বুঝিয়ে দেয় কতটা যন্ত্রণায় ভুগছে শিশুটি। হার্টে ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে সে! পাবনার চাটমোহরের মথুরাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের চাতাল শ্রমিক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী (সাবেক গার্মেন্টস কর্মী) সমেলা খাতুনের কোল আলো করে আট মাস আগে জন্ম নেয় আমির হামজা। ছোট্ট একটি ছোনের ঘরে বসবাস করেন তারা। খেয়ে না খেয়ে চলা সংসারে শিশু আমিরের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। ছেলেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। অর্থের অভাবে ওষুধও খাওয়াতে পারছেন না।

সমেলা খাতুন জানান, জন্মের কিছুদিন পর আমির অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার পর ভাল না হলে গত মার্চ মাসে ঢাকার শের-ই বাংলা নগরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে আমিরকে নিয়ে যান। সেখানে নানা রকম পরীক্ষা করানোর পর হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে তার। তিনমাস পর চিকিৎসক আবারও তাকে নিয়ে যেতে বললেও অর্থের অভাবে তারা যেতে পারেননি। অপারেশন করাতে ৩/৪ লাখ টাকা লাগবে বলেছেন চিকিৎসক। চাতাল শ্রমিক বাবার পক্ষে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। তাই বাড়ি ফিরে আসেন তারা।

https://mail-attachment.googleusercontent.com/attachment/u/0/?view=att&th=15dca95ba1106fef&attid=0.1&disp=inline&realattid=file0&safe=1&zw&saddbat=ANGjdJ-pZO30pK5nwovODONumv2r6JBLeS4Fuh1vjuzCFR5yaKKHDyurFepSpoRlLAWwq6oMn8UfKvAdisyV00nMHdP2ax87sBlnvx8qLi6DbniSLObkV7rfuJUvG-oRm6rS6sTMuyTsBelKQ6vXrgJb7jUXNU5nIfUNbi41lmJhJZwufRluISU4876sjWLHVywtXIyI1w0NLg6-kVIi766rmGwPKys2FHrjJsrorOlrzMvQQAULTHr-gG3JyG6-1j6g97m_f4g8YE3rFZmid7sWJPzmIXxbD7DsLJQYvZUK11l7HJ0JSPCSKGArJURN3uNrWEiDn3bDpxpPO1WOZ4LK_DXRWAe8ONZ7sOsX3eXUjLYQ1Ou2thFsjMRnyliSkIjRQFLF0LcNmVY6w3utidZxHGlreiUwlgsywEeuYaTPZ3CKTJ55gYG6mnV6AswibfkAnrwonO2R3Sg2P9yChQvP4Bbk4Ux0ks0lJkFzTR9cmdo2uihhiiY9Vox9-GAAOhPg1bI7zbkaKid2OHvM5bp9L_W6ucnzEEhtBbiY_tGFJ1X-OGjXnFubjz_BUeMPT97b4-f7DjWDFGvwf7734pAxaDXXSg6XwjQ9Vv9izS9wvOFLTXRDf1RWRvwl5yI

হাল ছেড়ে দিয়েছেন বাবা রফিকুল। তবে, হাল ছাড়েননি মা সমেলা খাতুন। একমাত্র আদরের সন্তানকে বাঁচাতে সমেলা খাতুন ছুটে গেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সম্পদশালী মানুষের কাছে। কোথাও থেকে কোন সাহায়্যে মেলেনি। তবে ইউপি চেয়ারম্যান সমেলা খাতুনের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন সাহায্যে চাওয়ার ‘প্রত্যয়ন পত্র’! তবে সহযোগিতার পরিবর্তে ‘প্রত্যয়ন পত্র’ দেখে বিষ্মিত হয়েছেন সমেলা খাতুন!

সমেলা খাতুন বলেন, ‘আমি যে হাত দিয়ে এক সময় কাজ করে রোজগার করেছি সেই হাত দিয়ে কিভাবে ভিক্ষা করবো! এখন টাকার অভাবে ছেলেকে ওষুধ খাওয়াতে পারছি না। স্বামীও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো মা; আমি কি করে ছেলের মৃত্যুকে মেনে নেব! ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করলে ছেলে (আমির হামজা) ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু টাকা পাবো কোথায়? আমার ছেলেকে বাঁচাতে চাই। আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচান!’

আমির হামজার সুস্থ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. স.ম. বায়েজিদুল ইসলাম জানান, রোগটি নিরাময়ের জন্য শিশুটির অপারেশন করাতে হবে। যা যথেষ্ঠ ব্যয় বহুল।

সহযোগিতা করতে চাইলে শিশুটির মা সমেলা খাতুনের মোবাইল নম্বরে (বিকাশ) যোগাযোগ করতে পারেন-০১৭৯৬-৩৮৩৫২৫

Comments

comments

x