আজ রবিবার | ২৪ সেপ্টেম্বর২০১৭ | ৯ আশ্বিন১৪২৪
মেনু

স্কুল থেকে বের করে দেয়ায় ছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

মানচিত্র ডেস্ক | ০৬ আগ ২০১৭ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতীকি ছবি

নাটোরের সিংড়ায় ড্রেসের সঙ্গে জুতা পরে না যাওয়ার অপরাধে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে সাবিনা ইয়াসমিন রিয়া (১২) নামের এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে পৌর এলাকার চকসিংড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়া ওই এলাকার গোলাম রাব্বানীর মেয়ে। সে সিংড়া দমদমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থী রিয়াকে ক্লাশ থেকে বের করে দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্কুল ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, সিংড়া দমদমা বালিকা বিদ্যালয়ে অন্য দিনের মতো রোববার সকালে এ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়। এ্যাসেম্বলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের মতো অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরাও ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করে নির্ধারিত জুতা পরে আসেনি। পরে সবাইকে পরবর্তী দিন থেকে ড্রেসের সঙ্গে জুতা পরে আসতে বলেন প্রধান শিক্ষক বিলকিস আক্তার বানু। এ্যাসেম্বলি শেষে সবাই যে যার মতো ক্লাসে চলে যায়। পরে ওই স্কুলের শিক্ষক আবু হানিফ রিয়াসহ তিনজনকে বাড়ি থেকে জুতা পরে আসতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থী রিয়া বাড়িতে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। পরে পরিবারের লোকজন ঘরের জানালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

রিয়ার বাবা গোলাম রাব্বানী বলেন, সকালে মেয়ে স্কুল থেকে চলে আসার কারণ জানতে চাই। মেয়ে বলে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে (ম্যাচিং করে) জুতা পরে না যাওয়ার কারণে তাকে জুতা পরে স্কুলে যেতে বলা হয়েছে। আমিও মেয়েকে বলি তুমি জুতা পড়ে না গেলে তো স্কুল থেকে বের করেই দিবে। পরে মেয়ে নিজ ঘরে প্রবেশ করেই দরজা-জানালা আটকে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

ক্লাসের শিক্ষক আবু হাসান বলেন, ক্লাশে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির তিন ছাত্রী ড্রেস পরে না আসার বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়। পরে ক্লাস শেষ করা হয়। তবে ক্লাস থেকে রিয়াকে বের করে দেয়া হয়নি।

সিংড়া দমদমা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস আক্তার বানু বলেন, স্কুলের এ্যাসেম্বলিতে অনেক শিক্ষার্থী জুতা পরে আসেনি। পরে তাদেরকে জুতা পরে আসার জন্য বলা হয়। কেউ কেউ বাড়ি থেকে জুতা পরে এসে ক্লাসেও যোগ দেয়। কিন্তু রিয়া কেন এমন ঘটনা ঘটালো তা বোধগম্য নয়। তিনি আরো বলেন, ড্রেসের সঙ্গে জুতা পরে না আসার কারণে শ্রেণি শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের কিছু বলেনি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা শুনেছি। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে সে বিষয় এখনও জানা যায়নি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন।

Comments

comments

x