আজ শনিবার | ১৮ নভেম্বর২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

অতি উৎসাহীদের লাগাম ধরবে কে?

এ এইচ রাসেল | ২২ জুলা ২০১৭ | ২:১৪ অপরাহ্ণ

russel2222

একজন অতি উৎসাহী আওয়ামী নেতার মামলায় একজন ইউএনও গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রজাতন্ত্রের সকলেই কম বেশি বিস্মিত, বিব্রত ও হতবাক হয়েছেন। পুরো বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবরটি ফলাও করে প্রকাশ করেছে। সর্বত্রই চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে কে এই আওয়ামী নেতা? কি তার পরিচয়? তিনি কবে, কখন দলে এসেছেন? তার পূর্ব পুরুষরা কে কোথায়, কি করতেন? দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমুলের নের্তৃবৃন্দদের মাঝে।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে কেমন করে একজন নির্বাহী কর্মকর্তার তড়িঘড়ি করে জামিন নামঞ্জুর করা ও দুই ঘন্টা পর আবার জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে। আর এই ঘটনার পর থেকে টকশোগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে বিভিন্ন মুখরোচক কথা। যিনি ওই নির্বাহী কর্মকর্তার জামিন না মঞ্জুর করেছেন তিনিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে এসেছে যিনি ইউএনওর জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তার কাছে নাকি সরকারের ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা পাওনা রয়েছে বিভিন্ন সার্কিট হাউজে অবস্থান করার বিল। আমাদের দেশে একটি ঘটনা ঘটলে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন আর কয়েক দিন সর্বত্র হৈ হুল্লোর, মিডিয়ায় টকশো, আলোচনা আর তার পর সব ভুলে যাওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। এই বিষয়টি যে তার থেকে আলাদা কোনো ঘটনা হবে না তাহা  বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই ঘটনা জানার পরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিষ্মিত হয়েছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই অতি উৎসাহী নেতা সাময়িক বহিস্কৃত হয়েছেন এর জন্য পুরো কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। তবে প্রশ্ন উঠেছে সবকিছুতেই কেন প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর যারা বড় বড় পদ-পদবী দখল করে আছেন তারা কি করছেন?

দুঃখের বিষয় হলো সরকারি দল কিংবা প্রশাসনে এরকমের অতি উৎসাহিত আওয়ামী নেতা আর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীরা বিভিন্নভাবে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন। এভাবে তারা দেশ, আওয়ামীলীগ, আর সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? সবারই ধারণা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়ভাবে হোক আর অন্যায় ভাবে হোক কিছু করতে পারলেই নিজ দল ও প্রশাসনে একজন আস্থা ভাজন মহামানব হওয়া যাবে! এই রকমের ব্যক্তি ও দলীয় নেতারা আজ দলের ভেতরে ও প্রশাসনে সয়লাব হয়ে আছে, যারা নব্য আওয়ামী নেতা হয়ে ও প্রশাসনের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করতে সক্ষম হয়েছে । এদের কে মনিটরিং করবে কে? আর কেই বা শোনাবে ন্যায় নীতি আর আদর্শের বাণী । মনে রাখতে হবে একটি রাজনৈতিক দল একটি ইনস্টিটিউট। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ একটি বৃহত্তম দল। দলের নেতাদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। অতি উৎসাহীদের লাগাম টেনে ধরা উচিত।

দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন, ন্যায় ,নীতি আদর্শের বাণী শোনানো উচিত। কিন্তু কে নেবে এই উদ্যোগ ? কে বলবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে জনগণের মনের কথা। রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাচ্ছেন যে কেউ, বাদ বিচার করা হচ্ছেনা তার অতীত বা যোগ্যতার মাপকাঠি। এই রকমের অতি উৎসাহী আওয়ামী নেতা ও প্রশাসনের কার্যক্রমে আগামী দিনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা কতটা লাভবান হবে তাহা এখন রীতিমতো ভাবনার বিষয় ।

লেখকপ্রকাশক সম্পাদক, মানচিত্র নিউজ ডট কম

 

Comments

comments

x