আজ সোমবার | ২৪ জুলাই২০১৭ | ৯ শ্রাবণ১৪২৪
মেনু

জোড়া মাথার শিশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষক দম্পতি

পাবনা প্রতিনিধি | ০৫ জুলা ২০১৭ | ২:১৭ অপরাহ্ণ

Pabna Joint Head Child Photo-01

মুখে ফুটফুটে হাসি দু’জনের। আনমনে বিছানায় শুয়ে থেকে খেলা করে শিশু দু’টি। আবার খেলার ছলে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। অপরিচিত কাউকে দেখলেও তাদের মুখে অমলিন হাসি। দেখে বোঝার উপায় নেই শিশু দু’টির মাথা জোড়া লাগানো। তবে কষ্ট যে হচ্ছে তা তাদের দেখলেই বোঝা যায়। পাশ ফিরতে পারে না; ওপর হতেও পারে না। দু’জনকে একসঙ্গে কোলে নিতে বাবা-মা’রও ভীষণ কষ্ট হয়।

বলছি পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলংকা গ্রামের শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম-তাসলিমা খাতুনের সন্তান রাবেয়া-রোকাইয়ার কথা। ২০১৬ সালের ১৬ জুন পাবনার একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় এই মাথা জোড়া লাগানো যমজ কন্যা শিশুর। বর্তমানে তাদের বয়স এক বছর। এই দম্পতির সংসারে সাড়ে ৬ বছরের আরো একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ এই জমজ শিশু দু’জনের। সিজার করার আগেরদিন পর্যন্ত বাবা-মা জানতে পারেননি পেটের মধ্যে এমন যমজ শিশু আছে। এমনকি ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাফীতেও বিষয়টি ধরা পড়েনি।

শিক্ষক দম্পতি বাবা-মা’র স্বপ্ন ছিল সুস্থ্য, স্বাভাবিক শিশু নিয়ে আনন্দে ভরে উঠবে সংসার। কিন্তু মাথা জোড়া থাকায় তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। দিন যত যাচ্ছে শঙ্কা ততই বাড়ছে। জোড়া মাথার যমজ শিশু সেই আগ্রহের পরিবর্তে পরিবারে নিয়ে এসেছে নিরানন্দ। ঘরে নতুন অতিথি আসলেও স্বজনদের মাঝে নেই আনন্দ। তাদের আশা, অপারেশনের মাধ্যমে জোড়া মাথা আলাদা করা গেলে আনন্দে ভরে উঠবে পরিবার।

রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুন জানান, ‘মাথা জোড়া হলেও তাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত আচরণ স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হয় খাওয়ানো, গোসল করানো, কোলে রাখা, উঠাবসা সবকিছুতে অস্বস্তি কাজ করে। এখন কষ্ট করে হলেও তাদের লালন পালন করতে হচ্ছে।’

রাবেয়া-রোকাইয়ার মাথা অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা গেলে খুব ভাল হতো বলে জানান তারা। তবে এমন ঝুুঁকিপূর্ন ও ব্যয় বহুল অপারেশনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা চাইলেন ওই শিক্ষক দম্পতি।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. স. ম. বায়েজীদ উল ইসলাম জানান, জন্মগত ত্রুটির কারণে জোড়া মাথার যমজ শিশুর জন্ম হয়। ভালভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর বোঝা যাবে তাদের মাথা আলাদা করা যাবে কিনা। তিনি বলেন, অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দু’টিকে আলাদা করা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ন। ঢাকায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

Comments

comments

x