আজ রবিবার | ১৯ নভেম্বর২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ১৪২৪
মেনু

বরিশালে সরকারি ওষুধে সয়লাব পুকুর

মানচিত্র ডেস্ক | ১২ মে ২০১৭ | ১:২০ অপরাহ্ণ

ওষুধ

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) একটি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া পুকুর পাড়ে পুড়িয়ে ফেলা বিপুল পরিমান ওষুধের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টার কম্পাউন্ডের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় এসব ওষুধ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের আয়া ও তার ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। পুকুরে সরকারি ওষুধ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে হাসপাতালের অন্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পাঠানো হয়।

তারা জানিয়েছেন, পুকুরে ভাসমান ওষুধের মধ্যে সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ডেস্কামেটথাসন সোডিয়াম, লার্ব ৫০+, লুমনা-১০, ডমপেরিডন, ভ্যাসোপিস্ক, থিওফাইনিল, জ্যাসোকাইন জেল, ডাইক্লোফেন ইনজেকশন, এনক্লোগ প্লাস, সালবুটামল, এজিথ্রোমাইসিন ৫০০, ডমপেরিডন, সালবুটামল সিরাপ, সিরিঞ্জ, টেপ, ইনফিওসন সেট ও মাইক্রোফোর টেপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ইকুইপমেন্ট রয়েছে। এছাড়াও কিছু ওষুধ পুকুরের পাড়ে দুই কোয়াটারের মাঝখানে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সব ওষুধের মেয়াদ রয়েছে। ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় লাখ টাকা।

ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় এসব ওষুধ শেবাচিম হাসপাতালের কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওষুধের ব্যাচ নম্বর রাখা হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টার মধ্যে নিশ্চিত হতে পারব। তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ধারে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক কমিটিতে পাঁচজন করে সদস্য রয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ডা. সিরাজুল।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ওষুধ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি ওষুধ সাধারনত বিক্রির জন্য চুরি করে। এভাবে ফেলে বা পুড়িয়ে দেয়ার জন্য নয়। বিষয়টি রহস্যজনক। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের আয়া শেফালী বেগম ও তার ছেলে মামুনকে আটক করা হয়েছে।

এসআই আবু তাহের জানান, শেফালী বেগমের বাসা ও হাঁস পালনের খোয়াড়ের নিচ থেকেও কিছু ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাসমান অবস্থায় ছাড়াও অনেক ওষুধ পুকুরের পানিতে তলিয়ে গেছে। ওষুধের প্যাকেটে শেবাচিম হাসপাতালের সিলও রয়েছে।

 

Comments

comments

x