আজ মঙ্গলবার | ২৪ অক্টোবর২০১৭ | ৯ কার্তিক১৪২৪
মেনু

ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যা : আটক শিবির কর্মীর স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

মানচিত্র ডেস্ক | ২১ জুন ২০১৬ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

ঝিনাইদহ-1

ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিবিরকর্মী এনামুল হক আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকাল ৪টার দিকে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা জাহাঙ্গীরের আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন এনামুল। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এনামুল হককে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে আটক করা হয়।  মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পুরোহিত আনন্দ গোপালকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এনামুল হক ঝিনাইদহ সদর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সদস্য। এনামুল সদর উপজেলার আড়মুখ কঠিপাড়া গ্রামের ফজলুল হক জোয়ারদারের ছেলে। তিনি ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এ বছর ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি বলেন, পুরোহিত হত্যার ঘটনায় সাতজন শিবির কর্মী অংশগ্রহণ করে। এনামুল তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গ্রাম্য ডাক্তার সমির গাজি ও কালীগঞ্জের ডা. আবদুর রাজ্জাক হত্যার সঙ্গে ছাত্রশিবির জড়িত ছিল। আদালতে জবানবন্দি প্রদানকালে এনামুল এ তথ্য স্বীকার করেছেন।

এ সব ঘটনায় আইএস জড়িত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি আলাতাফ বলেছেন, আইএস এসব হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য আইএসের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাবাহার আলী শেখ, সদর সার্কেল এএসপি গোপিনাথ কানজি লাল, সদর থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, এনামুলকে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা জাহাঙ্গীরের আদালতে হাজির করা হয়। আড়াইঘণ্টা ধরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত।  তিনি বলেন, পুরোহিত হত্যার ঘটনায় দুইটি টিম কাজ করছে। প্রথম দলে ছিল তিনজন এবং দ্বিতীয় দলে ছিল আরও চারজন। প্রথম পুরোহিতের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় বলে আদালতে স্বীকার করেন এনামুল। এর আগে পুরোহিতকে অনুসরণ করে কিলার গ্রুপ।

ওসি আরও বলেন, হত্যার ঘটনায় ব্যবহার করা চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এনামুল পলাতক ছিল। এনামুলকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটক করা হয়েছে বলে জানান সার্কেল এএসপি গোপিনাথ কানজি লাল।

প্রসঙ্গত, ৭ জুন দিনের বেলায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোরতিপাড়ার নিরীহ পুরোহিত আনন্দ গোপালকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরের দিন নিহতের বড় ছেলে অরবিন্দু গাঙ্গুলী বাদি হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করেন।

আইন শৃংখলা বাহিনী এ হত্যার ঘটনা নিয়ে তৎপরতা শুরু করে দেয়। এই প্রথম একজন আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হল।

Comments

comments

x