আজ রবিবার | ১৯ মে২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ১৪২৬
মেনু

সফটওয়্যার ধরবে ফাঁকিবাজ ডাক্তারকে !

মানচিত্র ডেস্ক | ০৫ জুলা ২০১৫ | ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

এবার থেকে সফটওয়্যার ধরবে ফাঁকিবাজ ডাক্তারকে। সরকারী হাসপাতালের ডিউটি ফেলে কাছাকাছি নার্সিংহোমে অপারেশন সেরে আসছেন চিকিৎসক, এমন নজির অনেক দেখতে পাওয়া যায়।৷ বিষয়টি সবাই জানেন, কিন্তু হাতেনাতে তাদের ধরা পড়ার নজির নেই বললেই চলে৷ বায়োমেট্রিক হাজিরার যুগেও এই প্রবণতায় লাগামটানা যায়নি৷ সহজেই ‘প্রক্সি’ দিয়ে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি রোজগার করে আসার রাস্তা থেকে এখনও সরেননি মেডিক্যাল কলেজের সার্জনদের একাংশ ৷ এবার ঘুরপথে এমন চিকিৎসকদের উপর নজরদারি শুরু করেছে ভারতের স্বাস্থ্য দপ্তর ৷ সৌজন্যে, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনার (আরএসবিওয়াই ) রেজিস্ট্রেশন সফটওয়্যার ৷ কে কখন কোথায় গিয়ে, কার কী অপারেশন করলেন, সেই তালিকার একটা বড় অংশই এবার দিনের দিনই আতস কাঁচের নীচে ফেলে যাচাই করে নিতে পারবেন স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা। স্বাস্থ্যভবনের এক আধিকারিক বলেন, আজকাল অধিকাংশ নার্সিংহোমে, ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালই যেহেতু আরএসবিওয়াই পরিসেবার ছাতার তলায় চলে এসেছে । তাই এই বিমার আওতায় থাকা রোগীদের অস্ত্রোপচার বেসরকারি ক্ষেত্রে হলেও, সরকারের হাতে সহজেই সেই অপারেশনের খুঁটিনাটি তথ্যচলে আসে ৷ সেই তথ্যগুলোর উপরই এবার থেকে নজরদারি করার চল হয়েছে ৷ স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, ‘যারা ডিউটির সময় সরকারি হাসপাতালের কাজ ফেলে বাইরে অপারেশন করেন, তাদের তো ধরা যাবেই ৷ এমনকি, যেসব সরকারী চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করার কথা নয়, তারাও প্রাইভেটে কিছু করলে ধরা পড়ে যাবেন৷’ তবে এখনও তারা এই সফটওয়্যারের সাহায্যে হাতেনাতে কাউকে ধরেছেন কি-না, তা স্পষ্ট করতে চাননি তিনি ৷ স্বাস্থ্যকর্তারা অবশ্য স্বীকার করছেন, এই ব্যবস্থায় সব ‘ফাঁকিবাজি’ ধরা পড়বে না৷ ফাঁকিবাজ সরকারী ডাক্তারবাবু বেসরকারি ক্ষেত্রে যদি এমন রোগীর অপারেশন করেন, যিনি এই বিমার আওতাধীন নন, তা হলে সেই চিকিৎসকের গতিবিধি ধরা শক্ত৷ ‘একটা বড় অংশের ফাঁকিবাজি ধরে ফেলাও তো মন্দ নয়,’ মন্তব্য এক স্বাস্থ্যকর্তার। আরএসবিওয়াই পরিসেবার এই সফটওয়্যার অবশ্য নতুন নয় ৷ কিন্তু নজরদারির ব্যবস্থা নতুন বলেই সরকারি সূত্রে খবর, যা দিন ১৫ আগে থেকে শুরু হয়েছে ৷ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্ক্যান করা সম্ভব, সরকারি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোথায় ছিলেন ৷ এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘রাষ্ট্রীয়স্বাস্থ্য মিশনের অর্থসহায়তায় এই রেজিস্টারটিকেই সম্প্রতি সফটওয়্যারের সাহায্যে এমনভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের সার্ভারে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যার দৌলতে এই রেজিস্টারের সরাসরি ‘অ্যাকসেস’ পাবেন তিন শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা ৷ সপ্তাহ দু’য়েক ধরে এর উপরই নজরদারি শুরু করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিকল্পনা ও সংস্কার বিভাগের দায়িত্বপ্রান্ত সচিব ওঙ্কারসিং মিনা ৷ ‘ কীভাবে বোঝা যাবে সরকারী চিকিৎসকদের ফাঁকিবাজি ? স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, আরএসবিওয়াইয়ের আওতায় যারা চিকিৎসাধীন (অর্থাৎ যারা কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা নেন), তাদের অস্ত্রোপচারের যাবতীয় খুঁটিনাটি নথিভুক্ত থাকে ওই রেজিস্টারে ৷সেখানে রোগীর নাম থেকে শুরু করে কিসের অস্ত্রোপচার, কখন হল, কোন চিকিৎসক করলেন বিস্তারিত তথ্য মজুত রাখা হয়৷ এই ব্যবস্থা বরাবর চালু ছিল। কিন্তু যেহেতু এর উপর কোনও নজরদারি এতদিন ছিল না, তাই নৈতিকতার ধারধারেন না, এমন সরকারি চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ সরকারি ডিউটির সময়েও বাইরে গিয়ে অপারেশন করতে কুণ্ঠিত হতেন না৷ স্বাস্থ্যকর্তাদের আশা, এবার নজরদারিচালু হওয়ায় ওইসব চিকিৎসকরা আর আগের মতো বেপরোয়াভাবে ডিউটি ফেলে বাইরে ব্যস্ত হবেন না সিজার -স্ক্যালপেল নিয়ে লক্ষ্মীর আরাধনায় ৷ রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবীমা যোজনার (আরএসবিওয়াই ) রেজিস্ট্রেশন সফটওয়্যারের সৌজন্যে কোনো ডাক্তার কখন কোথায় গিয়ে, কার কী অপারেশন করলেন, সেই তালিকার একটা বড় অংশই এবার দিনের দিনই আতস কাঁচের নীচে ফেলে যাচাই করে দেখে নিতে পারবেন স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা। সূত্র-এই সময়

Comments

comments

x